ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস (বিস্তারিত তথ্য) – Super cyclone Yaas Details in Bengali



পশ্চিম উপকূলবর্তী অঞ্চলের বিধ্বংসী cyclone,’ তাউকতাই’ এর ভয়ংকর স্মৃতি এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার নতুন এক অশনি সংকেতের চোখ রাঙানি পেতে চলেছে ভারত। 2020 সালের super cyclone Amphan এর আছড়ে পড়ার ঠিক এক বছরের মাথায় আবার বাংলার উপকূল লক্ষ্য করে দাপটের সাথে ধেয়ে আসছে অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। Severe cyclone, ‘ইয়াস’ নিজের শক্তি বাড়িয়ে Super cyclone এ পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

cyclone yaas details in bangla

সুপার সাইক্লোন ইয়াস এর সূত্রপাত

‘ইয়াস’ আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া একটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা,’ এসকাপ ‘এর তালিকা অনুসারে ‘ইয়াস’ নামটি প্রস্তাব করেছিল ওমান দেশ- যার অর্থ হল ‘হতাশা’।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায় যে ২২শে মে, উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এক নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে । ৭২ ঘন্টার মধ্যে এটি নিজের শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে বলে জানা যাচ্ছে । মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ দিকের উপকূলবর্তী অঞ্চল গুলোতেই সুপার সাইক্লোন, ‘ইয়াস’- তার নিজের পরিক্রমলীলা দেখাবে ;সেই সম্ভাবনাই প্রবল।

সাইক্লোন ইয়াস এর গতিপথ

২৩শে মে থেকে আন্দামান আর তার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় 45-55km বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে । আবার কোনো কোনো স্থানে হাওয়ার গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় 50-60km বা সর্বোচ্চ 90 km পর্যন্ত হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে এই তথ্যটিও জানানো হয়েছে যে ২৫ শে মে, মঙ্গলবার ,’ইয়াসের’ গতিবেগ হতে পারে ঘন্টায় 100-110 km যার সর্বোচ্চ বেগ ঘন্টায় 120 km পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে আর তারই সাথে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর ইয়াসের গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় 135 -145 km যা সর্বোচ্চ 160 km অবধি গিয়ে ঠেকতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ,’ইয়াস’ যে পথে এগোচ্ছে তাতে এই ঘূর্ণিঝড়টি অতি শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানবে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় মধ্যবর্তী এলাকায় ।

২৬শে মে, বুধবার সকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে এই দুই রাজ্যের একেবারে কাছাকাছি এসে পৌঁছবে আর সেদিনই দুপুরে ওডিশার পারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে বালাসোরের কাছ দিয়ে উপকূল পার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে । আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে যে ২৬ শে মে Super cyclone ইয়াসের গতিবেগ ঘন্টায় 155-165 km ও সর্বোচ্চ 185 km বেগে আছড়ে পড়তে পারে পূর্ব উপকূলবর্তী অঞ্চলে।

তবে কিছুটা হলেও স্বস্তির কথা এই যে আবহবিদরা মনে করছেন যে Amphan এর বিভৎসতা থেকে কম ভয়ানক হবে ইয়াসের দাপট। ইয়াসের জেরে রাজ্যজুড়ে থাকবে মেঘলা আকাশ আর তার সাথে চলবে বৃষ্টি।

ইয়াসের তাণ্ডব ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ

ইয়াসের তাণ্ডবের ফলে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই Super cyclone টি ধেয়ে আসার আগেই পূর্ব উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এবং অবিলম্বে এই অঞ্চলগুলিতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করে ফেলার নির্দেশ ও দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবদের।

তবে এই আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে যে উপকূলে এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়তে পারে কারণ একই সঙ্গে ঝড়, বন্যার ফলে শিবিরে আশ্রয় দিতে হবে বহু মানুষকে আর সেক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কেন্দ্র থেকে নির্দেশ এসেছে যাতে রাজ্যের মুখ্যসচিবরা উপকূলবর্তী এলাকায় আগে থেকেই ‘হেলথ সেক্টর ইনসিডেন্ট কমান্ড সিস্টেম’, ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম চালু করেন।

বিপদ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাবার উদ্দেশ্য নিয়ে আগেই উপকূলবর্তী অঞ্চলে হসপিটাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি রাখতে বলা হয়েছে আর ঘূর্ণিঝড় আসার পূর্বেই যেন উপকূলের বসতি থেকে সকলকে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাওয়া হয় তার জন্য ডিএম প্ল্যান তৈরি করতে বলেছিলেন স্বাস্থ্যসচিব।

তবে, ভয় পাবেন না

Super cyclone ‘ইয়াস ‘সম্পর্কে নিজের বক্তব্য জানাতে গিয়ে জনৈক আবহবিদ এক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে আরও শক্তি সঞ্চয় না করতে পারলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস, বর্তমানে যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে এটিকে এক সাধারণ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যা দেওয়া যেতে পারে। এর মারাত্মক আকার নেওয়ার সম্ভাবনা ও তিনি দেখছেন না।

তিনি আরও জানিয়েছেন, যে কোন ঘূর্ণিঝড় মাঝে মধ্যেই তার গতিপথ পরিবর্তন করে থাকে আর সেই নিয়ম মেনেই ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ বর্তমানে ওড়িশার দিকেই ধেয়ে আসছে।

তাই এখন শুধুই প্রহর গোনার পালা!! পশ্চিমবঙ্গ হোক বা ওড়িশা, যেখানেই সুপার সাইক্লোন টি আছড়ে পড়ুক না কেন ধ্বংস আর ক্ষতির পরিমাণের তো আর কোন তারতম্য ঘটবে না !! দেশের সাধারণ মানুষ তাই সর্বান্তকরণে এই কামনা করে যে সুপার সাইক্লোন ইয়াসের কেবলমাত্র গতি পথের পরিবর্তনই নয়…. হোক এর থেকে আশঙ্কা করা ক্ষয়ক্ষতির অবসান !!



Recent Posts