10 Must Read Inspiring Spiritual Stories in Bengali – ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গল্প সমূহ



আধ্যাত্মিক এবং ভক্তিমূলক গল্প সমূহ  আমাদের জীবনকে এবং নিজের সত্ত্বাকে সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গিতে  রূপান্তরিত করে তুলতে সাহায্য করে।গল্পগুলির মাধ্যমে আমরা আমাদের  ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হই  আর সেখান থেকে যে শিক্ষা লাভ ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে থাকি যা আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে চলার পাথেয় স্বরূপ । এই সকল   আধ্যাত্মিকমূলক গল্পগুলি আমাদের মনকে আরও সমৃদ্ধ করে যার ফলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি  স্বাভাবিকের চেয়ে আরও প্রশস্ত হয়। জীবনের সঠিক অর্থ  অনুসন্ধান করতে গল্পগুলি আমাদের  প্রভূত সাহায্য করে ,আধ্যাত্মিক চেতনার জাগরণ ঘটায়  এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এর গুরুত্ব আমরা অনুধাবন করতে পারি ।

10 Inspiring Spiritual Stories in Bengali - ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গল্প সমূহ [ Must Read ]

নিম্নে বর্ণিত হল এমনই কিছু আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ গল্পগুচ্ছ :

গল্প  -১

 গল্পটি মধ্যযুগে অর্থাৎ  দু-তিনশত বছর আগেকার   একটি ঘটনা অবলম্বনে বর্ণিত। বৃন্দাবনে এক ব্যবসায়ী থাকতেন যাঁর  ছিল একটি মিষ্টির দোকান।তাঁর সেই  দোকানটি ছিল  বৃন্দাবনের সবচেয়ে বিখ্যাত মন্দির বাঙ্কেবিহারীর ঠিক সামনে।দোকানদার ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনি প্রতিদিন খুব রাত করে দোকান বন্ধ করতেন কারণ তাঁর  মনের মধ্যে সুপ্ত  একটি বাসনা কাজ করত যে কোন না কোন দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে ভ্রমণ করার সময় তাঁর  দোকানে আসবেন এবং তাঁকে অবশ্যই   দর্শন দেবেন।

এইভাবে বহু বছর পার হয়ে গেল এবং  সময়ের সাথে সাথে দোকানদারও বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কৃষ্ণ দর্শনের আকাঙ্ক্ষা তাঁর   মন থেকে গেল না।  তিনি তখনো খুব রাত করে দোকান বন্ধ করতেন এই আশায় কখন যে শ্রীকৃষ্ণ আসেন ও তাঁকে দেখা দেন তার ঠিক নেই। একদিন প্রতিদিনকার মত দোকানদার বহু রাতপর্যন্ত দোকানে বসে আছেন।

তিনি দেখেন যে  হঠাৎ একটি ছোট্ট ছেলে তাঁর দোকানের দিকে এগিয়ে আসছে।  ধূতি পড়া, হাতে বালা, চুল কোঁকড়ানো  ,দেখতে সুন্দর  বছর সাত আটেকের সেই বালকটিকে দেখে দোকানদার ভাবলেন  বুঝি কোনো ধনী ব্যক্তির পুত্রসন্তান।দোকানদার একটু বিস্মিত হলেন এই ভেবে যে এত রাতে কার ছেলে ঘরের বাইরে রাস্তায় হাটছে।ছোট ছেলেটি হাঁটতে হাঁটতে তাঁর  দোকানেই আসে এবং দোকানদারের কাছ থেকে মতিচূরের লাড্ডু চায়। কিন্তু  ততক্ষণে মতিচুরের লাড্ডু শেষ হয়ে গেছে।তাই সে বালকটি কে বলল রাত হয়ে যাওয়ায় তারকাছে আর লাড্ডু নেই তবে ছানার মিষ্টি কয়েকটি আছে  তা সে নেবে কি না।

বালকটি রাজি হল ছানার মিষ্টি নিতে।দোকানদারও মিষ্টি  দিয়ে বালকটি কে জিজ্ঞেস করল যে তার কাছে কী টাকা আছে? বালকটি জানালো যে তার কাছে কোনো টাকাপয়সা নেই।  দোকানদার ভাবল  ওইটুকু ছোট বালকের  থেকে আর টাকা নিয়ে কী করবেন; কতটুকু আর মিষ্টি!তাই দোকানী আর কোনো অর্থ চাইল না বালকটির কাছ থেকে।  কিন্তু বালক এর মূল্য দিতে চাইল নিজের হাতের স্বর্ণের বালা দিয়ে।

কিন্তু দোকানদার রাজি হলনা এবং বললেন যে তাঁর কোনো মূল্য চাই না। তখন বালকটি ছুঁড়ে   মারল তার হাতের সোনার বালাটি দোকানের

ভেতরে।ঠিক তখনই দোকানদার সেই বালাটি ওঠাতে নিঁচু হলেন আর উঠে দেখেন যে বালকটি উধাও!!!!দূর দূর পর্যন্ত বালকটির আর দেখা নেই।কোথায় গেল সেই বালক এই প্রশ্ন দোকানদারের মনে বারে বারে আসতে লাগল  এবং তার বালাটি নিয়ে সেই রাতে আর ঘুমোতে পারল না বৃদ্ধ দোকানদার। পরদিন সকালে গোটা বৃন্দাবনে কলরব ছেয়ে গেল যে বাঙ্কেবিহারী মন্দিরের  বিগ্রহের হাতের সোনার বালা চুরি গেছে।বিগ্রহের হাতের বালা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না  ।এই বার্তা দোকানদারের কানে এসে পৌছালে দোকানদার সেই মুহূর্তেই  সেই বালাটি সাথে নিয়ে

বাঙ্কেবিহারী মন্দিরের পুরোহিতের কাছে যান, পুরোহিত কে বালাটি দেখান এবং সব কথা খুলে বলেন। পুরোহিত বালাটি দেখে বললেন যে  সেটিই

বাঙ্কেবিহারীর হাতের বালা! এরপর দোকানদার

বুঝতে পারলেন যে আগের দিন রাতে যেই ছেলেটি এসেছিল সে  আর কেউ নয় স্বয়ং অনাদির আদি সর্বেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। দোকানদার আনন্দে বিহ্বল হয়ে  কেঁদে ওঠে বাঙ্কেবিহারীর চরণে গিয়ে পরলেন এবং আফসোস করলেন যে ভগবান স্বয়ং তাঁর  দুয়ারে আসল কিন্তু তিনি চিনতে পারলেন না।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গল্প -২

একবার এক অল্প-বুদ্ধি-সম্পন্ন যুবক এক সাধুর কাছে গিয়ে ঈশ্বর সম্পর্কে জানতে চাইল।

সাধু জিজ্ঞেস করলেন, ঈশ্বরকে তোমার কি জন্য  দরকার?  বিশেষ কোনো দরকার না থাকেলে

ঈশ্বর দেখা দেন না। 

যুবকটি উত্তরে জানাল যে  তার ঈশ্বরকে দেখার ভীষণ ইচ্ছে এবং তাঁর দেখা চাই-ই চাই। সাধু বললেন, ‘চাইলেই তো আর ঈশ্বর দর্শন করা যায় না । দেখার জন্য হৃদয় ব্যাকুল হতে হয়, তবেই দেখা যায়।’

যুবক বলল, আমি  ব্যাকুল হয়েও  তাঁর কোনো ইঙ্গিত পাইনি। তিনি কোথায় থাকেন? সাধু উত্তর দিলেন,’ তিনি যে সর্বভূতে বিরাজমান। তোমার দেখার মত চোখ এখনও জাগ্রত হয়নি , তাই দেখতে পাচ্ছো না।’

কিন্তু যুবকটিকে কিছুতেই শান্ত করা গেল না। সে  বরং সাধুকে একটু আঘাত করেই  বলল , ‘আপনি যে বলেছিলেন  ঈশ্বরকে দেখাতে পারবেন? তবে কেন দেখাতে পারছেন না ? তবেই না বুঝব আপনি ও ওনাকে দেখেছেন এবং আপনার কথার মূল্য আছে।’

আধ্যাত্মিক শক্তি-সম্পন্ন সাধু টি  জানতেন যে সেই যুবকটির অন্তরে  সত্যিকারের ঈশ্বর-ভাব রয়েছে । তাই তিনি যুবককে শান্ত হতে বললেন, ‘আহা ধৈর্য ধরো, সবুরে মেওয়া ফলে।’

এই যুবকের ধৈর্যের বাঁধন যেন ততই ভাঙতে শুরু করে  এবং  সে আরও বেশী অস্থির হয়ে পড়ে। অবশেষে সাধু তাকে,একটি দিন ধার্য করে দিলেন আর বললেন সেই বিশেষ দিনটিতেই ঈশ্বরের দেখা  মিলবেই।

সাধুবাবার কথা অনুযায়ী  ঠিক সময়ে সেই বিশেষ দিনটিতে  যুবক  এসৈ পৌঁছাল। তাকে দেখেই সাধু বললেন যে তিনি স্থির করেছেন যে যুবকটির জন্য ঈশ্বরদর্শন, স্থলের চেয়ে জলেই সহজ হবে আর অল্প সময়ের মধ্যেই ঈশ্বরের দেখা পাওয়া সম্ভব হবে। ঈশ্বর দর্শন হবে শুনে যুবকের আনন্দ আর ধরে না ।  সাধু তখন যুবককে বললেন জলে নামতে এবং  তার সাথে তিনিও থাকবেন। গলা জলে নেমে যুবক অপেক্ষা করতে লাগল। সাধু ও জলে নামলেন। যুবককে বললেন, ‘ঐ জলে ডুব দাও।

আর দেরী নেই। সময় ঘনিয়ে এসেছে।’ যুবক জলে ডুব দিল। তখনই মুনি, জলের মধ্যে ডুবন্ত অবস্থায়, যুবকের ঘাড় ধরে থাকলেন এবং  কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই যুবকের প্রাণ যায় যায় অবস্থা  । চেষ্টা করেও যুবকটি উঠতে পারছিল না। অন্তিম অবস্থায় সাধুবাবা  তার ঘাড় থেকে হাত সরালেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি হে কেমন দেখলে?’ যুবক উত্তর দিল, ‘কি আর দেখব, এদিকে আমার প্রাণ যায় যায়! আমি কিছুই দেখিনি।’

সাধু তখন স্নেহের সুরে ব্যাখ্যা করে বুঝালেন, ‘”বৎস, যখন হ্নদয় পূর্ণ পবিত্র হবে ও সাধনায় মগ্ন হবে, আর ঈশ্বরের জন্য তোমার প্রাণ যায় যায় অবস্থা হবে, যেমনটি জলের ভিতরে থেকে বাঁচার জন্য তোমার হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই  বুঝবে যে ঈশ্বরদর্শনের সময় এসেছে এবং সকল যুক্তি-তর্ক এমনিতেই দূর হয়ে যাবে।’ যুবকটি বুঝলো যে সদা পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীচরণ স্মরণে  নিজেকে নিবেদন করলে নিশ্চয়ই পরমকরুনাময় সচ্চিদানন্দময় গোলোকপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মঙ্গল ও কল্যাণ  সাধন করবেন।।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গল্প ~৩

সুরদাস ছিলেন ভগবান কৃষ্ণের একজন পরম ভক্ত।তিনি শ্রীকৃষ্ণকে যারপরনাই  ভক্তি করতেন ও ভালবাসতেন । শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সম্মানার্থে সুরদাস তাঁকে নিয়ে প্রায় এক লাখেরও বেশি ভক্তিমূলক সঙ্গীত রচনা করেছিলেন।গল্পানুসারে, সুরদাস ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি,যিনি একদা রাধার পায়ের নূপুরটিকে কুড়িয়ে পেয়ে থাকেন। সেইসময়ে রাধা তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন।

কিন্তু  যখন রাধা তার নূপুর টি সুরদাসের কাছ থেকে  ফেরত চায়, তিনি তা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং সম্মতি দেন না এই বলে যে, তিনি অন্ধ হওয়ার কারণে তাঁর কাছে নিশ্চিত  কোন ও প্রমাণ নেই যে তিনিই রাধা আর সেই নূপুরটির অধিকারিণীই নন তিনি ই ।

সেই মুহূর্তে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদে সুরদাস তাঁর দৃষ্টিশক্তি  ফিরে পান।  এই ঘটনাটির পর আপ্লুত ও বিহ্বল   সুরদাস  তাঁর সামনে ভগবান কৃষ্ণকে প্রত্যক্ষ করামাত্র করজোড়ে প্রভুর কাছে নিবেদন করে যাতে তাঁর  চোখের দৃষ্টি পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় ।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর কারণ জানতে চাইলে উত্তরে সুরদাস তাঁকে জানান যে তিনি স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন পেয়েছেন  আর সেটাই তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ পাওয়া জীবনের কাছ থেকে।সুরদাস আরো বলেন যে শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন  করার পর   তিনি এ জগতের আর কিছুই পুনরায় দেখতে চান না।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

Bengali Moral Stories | Children Stories for Educational Purpose in Bangla

গল্প ~৪

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক অতি প্রিয় বন্ধু ছিলেন যার নাম ছিল সুদামা। তিনি এক ব্রাহ্মণ সন্তান ছিলেন। তারা দুজনে একই সাথে গুরুগৃহে শিক্ষালাভ করেছিলেন। তিনি গৃহস্থ ছিলেন তা সত্ত্বেও সংগ্রহ পরিগ্রহকে দূরে রেখে ভাগ্যানুসারে যা কিছু পাওয়া যেত তাতেই  তিনি সন্তুষ্ট থাকতেন। ভগবানের উপাসনা এবং ভিক্ষার্জনই ছিল তার প্রাত্যহিক  কর্মসূচী। তাঁর  পত্নী  ছিলেন অতীব পতিব্রতা এবং নিজের স্বামীর সাথে সর্বাবস্থাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন।

একদিন দুঃখিনী স্ত্রী  ক্ষুধার তাড়নায় স্বামীর কাছে গিয়ে বললেন, “হে নাথ, সাক্ষাৎ লক্ষ্মীপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন আপনার বন্ধু তখন আপনি তাঁর   কাছে একবার যান। তিনি যখন জানবেন যে আপনি অন্নাভাবে  কষ্ট পাচ্ছেন তখন তিনি আপনাকে যথেষ্ট ধন সম্পত্তি দেবেন। শুনেছি যে তিনি শরনাগত বৎসল এবং ব্রাহ্মন ভক্ত ও বটে। আপনি  দ্বারকায় যান। আমার দৃঢ় বিশ্বাস  আপনি না বললেও তিনি আমাদের দারিদ্র দূর করে দেবেন।”

সুদামার স্ত্রী একই কথা বলে তাঁকে  দ্বারকা যাবার জন্য অনুরোধ করছিল। অর্থলাভের চিন্তা দূরে সরিয়ে রেখে  সুদামা মনে মনে ভাবলেন  দ্বারকায় গেলে  ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন হয়ে যাবে এবং সেই অজুহাতে জীবনের এই সর্বশ্রষ্ঠ লাভ হয়ে যাবে। এই ভেবে সুদামা দ্বারকা যাবার মনস্থির করলেন ও  শ্রীকৃষ্ণকে দেবার মত যদি বাড়িতে কিছু থাকে তা দেবার জন্য তাঁর স্ত্রীকে বললেন। আশে পাশের বাড়ি থেকে সুদামার স্ত্রী  চার মুঠো চিঁড়ে চেয়ে নিয়ে এসে একটা কাপড়ে পুটলী করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উপহার দেবার উদ্দেশ্যে   স্বামীর হাতে দিলেন।

দ্বারকায় পৌঁছে সুদামা অন্যান্য ব্রাহ্মণদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শ্রীকৃষ্ণের মহলে গিয়ে উপস্থিত হলেন । সকলে তার দীনহীন অবস্থা দেখে তাকে উপহাস করতে লাগলো। দ্বাররক্ষীরা  সুদামা কে দেখে তো প্রথমে আমলই দিলো না কিন্তু পরে তারা ভিতরে গিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বললো ,”প্রভু, দুয়ারে এক অতি দরিদ্র ব্রাহ্মণ এসেছে যার সারা গা ধূলিময়, পাগুলো সব ফেটে চৌচির। সে বলছে তার নাম সুদামা, আর বলছে সে নাকি আপনার বন্ধু।”

সুদামার নাম শোনা মাত্র ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজের সিংহাসন থেকে নেমে এসে খালি পায়ে দুয়ারের দিকে ছুটে  গিয়ে সুদামাকে জড়িয়ে ধরলেন । শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “হে বন্ধু, তুমি অনেক কষ্ট ভোগ করে এখানে এসেছো। দ্বারকায় তোমার শুভাগমন হোক।” ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সুদামাকে  যারপরনাই যত্ন   করলেন । তার পা দুখানা ধুইয়ে দিয়ে চরনামৃত গ্রহন করলেন এবং স্নান করিয়ে পরবার জন্য রেশমী বস্ত্র দিলেন। ভগবান তাকে বহুবিধ সুস্বাদু খাবার দিলেন ভোজনের জন্য।

বহুক্ষন নিজেদের মধ্যে বাল্যকালের স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করার পর শ্রীকৃষ্ণ বললেন বন্ধু, ,”বৌদি আমার জন্য কি পাঠিয়েছে?” সুদামা প্রথমে একেবারে সংকোচ বোধ করলেন  কিন্তু শেষকালে শ্রীকৃষ্ণ নিজেই সেই চিঁড়ে বের করে সেই চার মুষ্টি চিঁড়ে খেলেন। কিছুদিন সুদামা দ্বারকাতেই থাকলেন। কিন্তু কোনোভাবেই শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে অর্থ চাইতে পারলেন না । তবে ভগবান সবই জানতেন। সুদামা দ্বারকা থেকে বাড়িতে ফিরলে অবাক হয়ে যায়। সুদামা দেখেন বাড়ির অবস্থার আমুল পরিবর্তন হয়ে গেছে। তাদের দুঃখ দুর্দশা এবং  অভাব দূর হয়ে গেল। সে বুঝল এ সবই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা। সুদামা মনে মনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করল।

বিঃদ্রঃ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা অপার। ওনার স্মরনে প্রকৃত ভক্তি নিয়ে যারাই আসে তারাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপা লাভ করে।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গল্প-৫

একদিন এক গৃহিনী ঘরের দরজা খুলে দেখেন তিনজন সাধু মনিষী দরজার সামনে দণ্ডায়মান।  

গৃহিনী প্রথমে তাঁদের প্রণাম জানালেন এবং তাঁদের  

ভিতরে প্রবেশ করতে বললেন ।

একজন সাধু জিজ্ঞাসা করলেন   ,” তোমার স্বামী ঘরে আছে ?”।গৃহিনী বললেন ,” না , উনি সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরবেন । তখন সাধুরা বললেন যে তাঁরা   বাইরের অপেক্ষা করবেন যতক্ষণ না গৃহিনীর স্বামী ঘরে ফিরে আসেন । 

সন্ধ্যা হলে গৃহিনীর স্বামী ঘরে ফিরলেন ।

স্বামী সব কথা শুনে স্ত্রী কে আদেশ দিলেন মহাত্মাদের  ঘরে নিয়ে আসার জন্য।  

গৃহিনী বাইরে এসে সাধু মহাত্মাদের বললেন  যে তাঁর স্বামী ঘরে ফিরে এসেছেন এবং তাঁরা যেন কৃপা করে গৃহিণীর ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন।

তিন সাধুর মধ্যে একজন সাধু ,বাকি দুই সাধুকে দেখিয়ে বললেন,” আমি হচ্ছি প্রেম , আমার সঙ্গে এই সাধু হলেন”’ সহযোগিতা ‘ আর ইনি হচ্ছেন ‘ ধন ‘ ।

তোমার স্বামী কে গিয়ে বলো যে , “সে কোন সাধুকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দেবে” ? গৃহিনী সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামীর কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বললেন । সব কথা শুনে স্বামী বললেন ‘ ধন ‘ কে ই ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিৎ হবে।পাশের ঘরে থেকে তাদের ছোট্ট মেয়েটি  তার বাবার উদ্দেশ্যে   চিৎকার করে বলতে লাগলো ,” তুমি ‘ প্রেম ‘ কে ই ঘরে প্রবেশ করতে দাও বাবা”, কারন ‘ধন ‘ থেকেও আমাদের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় বস্তুটি হল  ‘প্রেম ‘ , কারণ পরিবারের সকলের মধ্যে  প্রেমের বন্ধন না থাকলে ‘ধন ‘সম্পদ সবই অর্থহীন হয়ে যাবে ।”

মেয়ের কথা শুনে মা বাবা রাজী হলেন এবং গৃহিনী বাইরে এসে বলতে লাগলেন , ” হে মহাত্মাগন , আপনাদের মধ্যে যিনি ‘ প্রেম ‘ তিনি আমাদের গৃহে  প্রবেশ  করুন । “

মহাত্মা ‘ প্রেম ‘ রওনা দিলে প্রেমের পিছন পিছন ‘ ধন ‘ এবং ‘ সহযোগিতা ‘ ও রওনা দিলেন ।

গৃহিনী বললেন , ” আরে একি , আমি তো শুধু ‘ প্রেম মহাত্মাকেই প্রবেশ করতে বলেছিলাম   , ওনার সঙ্গে সঙ্গে আপনারা এলেন কেন ? “

এই কথা শুনে ‘ প্রেম ‘ মহাত্মা বললেন, ” আমি যখন কোথাও যাই , তখন আমার সঙ্গে সঙ্গে ‘ ধন ‘ এবং ‘সহযোগিতা ‘ ও পিছন পিছন  আসেন ।কিন্তু তারা যদি কোথাও যায় , তাহলে তাদের কারোর পিছন পিছন কেউ  যায় না । “

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

Before you read next story check this beautiful list of Bangla Quotes and Lines:

গল্প -৬

এই গল্পটির বিষয়বস্তু হল  শ্রীরামচন্দ্র এবং হনুমানের সেতু বন্ধন সম্বন্ধীয়।যখন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র রাবণকে বধ করার জন্য  লঙ্কা যাওয়ার জন্য সেতু বন্ধন করছিলেন, তখন বানরেরা বিশাল  ভারী সব পাথর উত্তোলন করে সমুদ্রে ফেলেছিল। বানর শ্রেণীদের মধ্যে হনুমান ছিলেন সর্বশক্তিমান ।  কিন্তু সেই স্থানে  একটি কাঠবিড়ালী  ও উপস্থিত ছিল, যে বালির উপর গড়াগড়ি দিয়ে সেই বালি নিয়ে সেতুর উপর ফেলে তাদের সাহায্য করছিল। আর তাই দেখে হনুমান কাঠবিড়ালীকে উপহাস করেছিল।

সেই দৃশ্য দেখে ভগবান রামচন্দ্র হনুমানকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,‘‘হনুমান বল তো আমি কেন এই সেতুটি নির্মান করছি?”

উত্তরে হনুমান বলল, ‘‘সমুদ্রকে অতিক্রম করার জন্য  প্রভু।’’ তখন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র বললেন যে তা  সত্যি নয়, কারণ তাঁর   সমুদ্র অতিক্রম করার জন্য সেতুর কোন প্রয়োজন নেই কারণ কিছু সময় পূর্বে   তিনি সামান্য ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন বলে সমুদ্র শুকিয়ে গিয়েছিল, আর শুধুমাত্র তাঁর  নাম লেখার সাথে সাথেই পাথরগুলো ভাসতে শুরু করেছিল।  রামচন্দ্র আরও বললেন যে  প্রকৃতপক্ষ তিনি যদি চান মুহুর্তের মধ্যেই লঙ্কায় পৌছে যেতে পারেন,  এত শক্তি প্রয়োগের কোনো প্রয়োজনই নেই। 

 হনুমান তখন রামচন্দ্রকে  বললেন ,”আপনি রাবণকে হত্যা করতে চান।’’ তখন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র  তখন বললেন যে তিনি যদি  রাবণের হৃদয় থেকে চলে যান তাহলে রাবণের মৃত্যু হবে, কারণ তিনি রাবণের  হৃদয়ে পরমাত্মারূপে আছেন বলে রাবণ জীবিত আছেন।

তখন হনুমান খুব বিনীতভাবে শ্রীরামচন্দ্রকে   সেতুবন্ধনের কারণ জিজ্ঞাসা করল। তখন ভগবান শ্রীরাম বললেন, ‘‘ সেতুবন্ধন করার পেছনে  একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমাদের সবাইকে ভক্তিমূলক সেবা দানের মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ করা।’’ শ্রীরামচন্দ্র আরও বললেন ,” শুধু কাঠবিড়ালী নয় 

সবার মত এই মাকড়সাও ভক্তিমূলক সেবায় তার সর্বোচ্চ  প্রচেষ্টাকে সর্বদা কাজে লাগিয়ে চলেছে। আর এই ভক্তিমূলক সেবাই হচ্ছে জীবাত্মাকে শুদ্ধ চেতনায় অধিষ্ঠিত করার একমাত্র উপায়।”

তাই সেবা যে রকম হোক না কেন, এতে কোন স্তর ভেদ করা উচিত নয়। সর্বদা সেবার মাধ্যমে  নিজের সর্বোত্তম প্রচেষ্টাকে নিয়োজিত করলে স্বয়ং ঈশ্বরও  সেই মনোভাবকে গ্রহণ করেন।  ভক্তিমূলক সেবায় নিয়োজিত হতে পারলেই শুদ্ধ চেতনায় অধিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব হয়।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 

গল্প-৭      

একদিন নারদ মুনি শ্রীহরির কাছে জানতে চাইলেন

—প্রভু, হরি নামের কি গুণ?

ভগবান শ্রীহরি বললেন,”চলো  তাহলে,এর উত্তর পৃথিবীতে পাব আমরা ৷”

তখন নারদ মুনি ও ভগবান শ্রীহরি দুজনে পৃথিবীতে আসলেন ৷

একটি গোবরে পোকাকে লক্ষ্য করে

শ্রীহরি নারদকে বললেন এই পোকাকে সেই একই প্রশ্ন  জিজ্ঞেস করতে।

তখন নারদমুনি পোকাকে গিয়ে জিজ্ঞেস

করলেন—”আচ্ছা বলতো,  হরি নামের কি গুণ?পোকাটি সেই মুহূর্তেই  মারা গেল ৷

এরপর সেই একই প্রশ্ন নারদ এক হরিণ ছানাকে জিজ্ঞেস করলেন। প্রশ্নটি শোনার সাথে সাথে হরিণ ছানাটি ও মারা গেল ৷তারপর এক গাভীর সদ্য জন্ম নেয়া বাছুরকে জিজ্ঞেস করলেন নারদ মুনি আর সেও একই ভাবে  মারা গেল ৷

এরপর তাঁরা দুজনে এক রাজবাড়িতে এলেন।সেখানে এসে দেখেন যে তখনি এক রাজপুএের জন্ম হয়েছে ৷শ্রীহরি নারদকে বললেন,”এবার একে ওই একই প্রশ্ন  জিজ্ঞেস কর; উওর পাবে ।”

নারদ বলল, “প্রভু, উনি যে রাজার পুত্র;  যদি এও মারা যায় তাহলে যে দন্ড ভোগ করতে হবে৷

শ্রীহরি  তখন নারদকে অভয় প্রদান করে বললেন, “চিন্তা কোরো না ,এবার কিছুই হবেনা ৷”

শ্রীহরির অভয়বাণী শ্রবণ করে  নারদ রাজপুত্রকে জিজ্ঞেস করলেন,”আচ্ছা বলতে পারো, হরি নামের কি গুণ?

তখন শ্রীহরির কৃপায় শিশুটি উওর দিল,”আমি গোবরের পোকা থেকে হরিণ,আবার হরিণ

থেকে গরু এবং গরু থেকে অবশেষ দুর্লভ মানবে রূপান্তরিত হয়েছি।”

নারদ বুঝতে পারলেন যে সবই শ্রীহরির মহিমা।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

Mind blowing Bangla Facts and Viral Stories:

গল্প -৮

একদিন একটি মন্দিরে একজন ধর্মপ্রচারক বহুসংখ্যক দর্শনার্থীর মাঝে যখন পাঠদান করছিলেন তখন একসময় তিনি সকলের

উদ্দেশে বললেন, ‘ওহে বন্ধুগণ !আমি তোমাদের একটি সত্য উদ্ঘাটিত করছি।”যদি তোমরা ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপের অভাবনীয় শক্তি সম্বন্ধে অবগত হতে তাহলে তোমরা তোমাদের দৈনন্দিন প্রতিটি কাজের পূর্বে ”হরে কৃষ্ণ” বলতে।”

যারাই কোনো কাজের শুরুতে সমাজের সর্বকলুষ নাশকারী কৃষ্ণের মহামন্ত্র জপ করে তারাই চমৎকৃত  হবে।এমনকি যাঁরা বিশুদ্ধ চিত্তে   হরিনাম জপ করেন তাঁরা  জলের উপরেও হাটতে সক্ষম হতে পারেন। একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ ধর্মযাজকের সেই প্রবচনগুলি খুব মনোযোগ সহকারে শুনছিলেন।তিনি ধর্মযাজকের খুব নিকটেই বসেছিলেন। তাকে অনেক কষ্ট সহ্য করে  

 মন্দিরে আসতে হত কারণ পথের মধ্যে তাকে একটি বড় নদী পার হতে হত।তবুও সে নিয়মিত মন্দিরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং তার ভক্তদের দর্শন করতে আসত। সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ প্রায়ই অন্যের অনুগ্রহের অপেক্ষায় নদীর পারে বসে থাকতে হত যেহেতু তাঁর নিজস্ব কোনো নৌকা ছিল না আর নদীর পথের সীমা ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ।

তাই যেই মুহূর্তে ব্রাহ্মণটি  ধর্মযাজকের মুখে শুনল যে ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্রটি জপ করলে জলের উপর দিয়েও হাঁটা যায়’ তখন সে ভাবল যে  এই দীর্ঘ নদীপথ পারি দেয়া থেকে মুক্তির উপায় সে অবশেষে পেল। এরপরের দিন যখন সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ নদীর পারে পৌছল সে ভক্তি সহকারে   ”হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র” জপ করতে করতে নির্ভীকভাবে নদীর দিকে অগ্রসর হয় আর যখনি সে নদীর জলে পা রাখে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অশেষ কৃপায় সে  অবলীলায়  নদীর জলের উপর দিয়ে হাটতে সক্ষম হয়।

দেখতে দেখতে এভাবে হেঁটে নদী পার হওয়া দরিদ্র ব্রাহ্মণটির একটি নিয়মিত কার্যে পরিনত হলো।সেইমত একদিন যখন সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ জলের উপর দিয়ে হেটে নদী পার হচ্ছিল, তার হঠাৎ মনে হলো যে যেই ধর্মযাজক তাকে এই ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপ করার মহান উপদেশটি দিয়েছিলেন, তাঁর প্রতি  কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়নি।তখন সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ সেই ধর্মযাজককে তার গৃহে শ্রীকৃষ্ণের মহাপ্রসাদ পাওয়ার উদ্দেশে নিমন্ত্রণ করে ।ধর্মযাজক দরিদ্র ব্রাহ্মণের নিমন্ত্রণে সম্মতি জানিয়ে তাঁরা  দুইজনই  দরিদ্র ব্রাহ্মণের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেন।নদীর নিকটে এসে সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ টি”হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র” জপ করতে করতে নদীর জলে হাঁটতে শুরু করে দিয়েছে  বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে  ।

কিন্তু যখন সে পিছনে ফিরে তাকাল সে দেখতে পেল ধর্মযাজক বহুদূর থেকে নদীর  এক ই পারে  দাঁড়িয়ে অত্যন্ত বিস্ময়করচিত্তে তাকে লক্ষ্য করে যাচ্ছেন ।তখন সেই দরিদ্র ব্রাহ্মণ ধর্মযাজককে বলল, শুধুমাত্র ”হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র”জপ করুন যেমনটি আপনি আমাদের উপদেশ দিয়েছিলেন।”তখন সেই ধর্মযাজক বললেন, আমার প্রিয় বন্ধু, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার হয়তো  ততটা বিশ্বাস নেই যতটা তোমার আছে।’ তাই তুমি যেটা পারলে আমি সেটা  করতে পারলাম না”।  

‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্রের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন করতে আমাদের বিদ্যার সাগর হওয়ার প্রয়োজন নেই ; প্রয়োজন শুধুমাত্র বিনম্রতা,একাগ্রতা ও ভক্তি।  

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গল্প -৯

একদিন এক যুবক তাঁর গুরুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় করি।  আমি কীভাবে এই ভয় থেকে মুক্তি পেতে পারি? ” গুরুমশাই   উত্তর দিয়েছিল, তুমি যখন কয়েকটি মুদ্রা ধার কর, তখন কি পরে সেগুলি শোধ দিতে ভয় পাও?”

 শিক্ষার্থী অবাক হয়ে জবাব দিয়েছিল, “অবশ্যই না!তবে এর সাথে আমার মৃত্যুভয়ের কী সম্পর্ক?”

 শিক্ষক তখন  মাটি থেকে একটি ছোট  মাটির টুকরা তুলে নিলেন এবং বললেন, “তুমি তোমার শরীরটি কে ধার স্বরূপ লাভ করেছো এবং সেই ঋণ সময়মতো পরিশোধ ও করতে হবে । তোমার দ্বারা খাওয়া প্রতিটি রুটি, ,পান করা প্রতিটি চুমুক সেই ঋণকেই প্রতিমুহূর্তে  বাড়িয়ে তোলে। তুমি যে ধূলায় চলছো সেই ধূলিকণা থেকেই তুমি তৈরি হয়েছ এবং অবশেষে  মাটির ভিতরেই  তুমি বিলীন হয়ে যাবে। আর সেটিই প্রত্যেক মানুষেরই সর্বশেষ পরিণতি।”   কথাটা শেষ করে বৃদ্ধ শিক্ষক মশাই হাতে রাখা মাটির টুকরোটি হাওয়ায় ভাসিয়ে দিল  এবং অপেক্ষা করতে লাগল যতক্ষণ না মাটিতে টুকরোটি পড়ে । শিক্ষক মশাই আরও বললেন  , “তুমি যতই উঁচুতে ওঠ না কেন,  হয়তো অনেকক্ষণ  ধরে বিমানের মধ্যে রয়েছ, তবুও তোমাকে নিচে নেমে পড়তেই হবে।”

তিনি যুবক কে বললেন  ,” এই পতনের ভয় মোকাবিলা করা খুব সহজ – নিজেকে নিজের দেহের অধীশ্বর ভাবা বন্ধ কর। তুমি কেবল একজন ভাড়াটিয়া মাত্র এবং তুমি যেহেতু তোমার ভাড়া দেওয়ার সময়সীমার দৈর্ঘ্য  জানো না  তাই মনে রাখো যে সেটি যে কোনও মুহূর্তে  শেষ হতে পারে।  আমরা সকলেই ঋণগ্রস্ত  এবং  আমাদের ঋণ  অবশ্যই পুনরুদ্ধার হবে সে আমরা ভয় পাই বা না পাই ।  তাহলে জীবনের সত্যটি জানার পর আমাদের ভয় পাওয়ার কি সত্যিই কোনো কারণ আছে  ”

যুবকটি তার গুরুমশাইয়ের প্রত্যেকটি কথার মর্মার্থ বুঝতে পারল এবং চুপ করে রইল।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

Before you read the last story check the below posts of ours

গল্প-১০

অনেক বুঝিয়ে এবং অনেক কষ্টে  একবার একটি ভ্রমর মধু খাওয়াতে গোবরে পোকাকে রাজি করাল ভ্রমর তখন গোবরে পোকাকে নিয়েই গেল ফুলের বনে মধু খেতে ।দুই বন্ধু মিলে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে মধু খেতে আরম্ভ করে দিল ।মধুর আস্বাদন পেয়ে গোবরে পোকা ভাবতে লাগল,”বা !এতো খুব সুন্দর স্বাদ! আরও বেশি বেশি করে খেতে শুরু করে দিই।” মধু খেয়ে একসময় তাঁর নেশা লেগে গেল আর তখন গোবরে পোকাটি নরম ফুলের পাপড়ির ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়ল ।

ক্রমশ সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল আর সন্ধ্যার সময় প্রাকৃতিক নিয়মেই অনেক ফুলের পাপড়ি বুঝে যায় বা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।গোবরে পোকাটি যে ফুলটিতে ঘুমিয়ে ছিল সেই ফুলটিও বুজে গেল আর ভ্রমরটি গোবর পোকাটিকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর নিজের ঘরে চলে গেল॥ পরদিন সকালেই ঈশ্বরের এক ভক্ত সেই ফুলটি তুলে নিয়ে গেল ভগবানের পূজার উদ্দেশ্যে।

গোবরে পোকা কিন্তু তখনো ফুলের মধ্যেই শয্যারত। অন্যদিকে ভক্তটি সেই ফুলটিকে চন্দনচর্চিত করে ভগবানের শ্রীচরণে অর্পণ করলেন।কিছু সময় পর যখন ফুলটি প্রস্ফুটিত হলো তখন গোবরে পোকা ভয় পেয়ে গেল। সে তাকিয়ে দেখে আন্দাজ করতে পারল না যে সে কোথায় এসে পড়েছে।কিন্তু পরে সে বুঝতে পারল যে সে ভগবানের চরণে স্থান পেয়েছে ।গোবরে পোকাটি অবাক হয়ে ভাবতে লাগল,” আমি একটা গোবরেপোকা, যার স্থান ছিল পচা দুর্গন্ধ গোবরের  মধ্যে ,আর আজ আমি কিনা জগৎপতির চরণে! আজ যদি ভ্রমরের সঙ্গে না বের হতাম তাহলে হয়তো কোনো দিনও ভগবানের শ্রীচরণ স্পর্শ তো দূরের কথা দর্শনও করতে পারতাম না।”        

তাই মহাজনেরা সঠিকভাবেই বলেন যে -‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে নরকবাস’ । সাধুসঙ্গের জন্যই কিন্তু আজ গোবরে পোকার সিদ্ধিলাভ ঘটল। অসৎসঙ্গ শুধু নিচু পথেই নামায় না তা জীবনে ভয়ংকর বিপদও  ডেকে আনতে পারে। সুন্দর ফুল তো অনেকই ফোটে কিন্তু সবাই ভগবানের চরণে নিবেদিত হবার যোগ্যতা পায় না।কিছু ফুল   মৃতদেহের ওপর আবার কিছু গাছেই শুকিয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে। তাই মানুষ নিজেকে কোন পথে নিয়োজিত এবং পরিচালিত করবে সেই রুচিবোধ টি সম্পূর্ণ তার নিজেরই।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

আধ্যাত্মিক ধর্মীয় গল্পগুলির নিছক শুধু গল্পই নয়। এটি মানুষের আধ্যাত্মিক চেতনাবোধ জাগ্রত করে মানুষকে বিভিন্ন দিক দিয়ে সমৃদ্ধ করে তোলে।শিক্ষণীয় এই গল্পগুলি যদি প্রত্যেকটি মানুষ হৃদয়ঙ্গম করতে পারে তাহলে জীবন অধিকতর   সুখদায়ক ও শান্তিপূর্ণ হবে।

Recent Posts