প্রকৃতির নিয়মে প্রত্যেক মানুষকেই জীবনের প্রধান চারটি অধ্যায় অতিক্রম করতে হয় ,যথা শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য। তবে প্রধান এই চারটি অধ্যায়ের মধ্যে শৈশব ও কৈশোর যাকে আমরা আক্ষরিক অর্থে ‘ছেলেবেলা” বলে থাকি তার স্মৃতিগুলো ই হল সব থেকে রঙিন এবং সজীবতায় পরিপূর্ণ ।
দায়িত্ব, কর্তব্যবোধ এবং সংসারের নানা জটিলতার সাথে আবদ্ধ থাকে না এই বাঁধন ছাড়া রঙিন সময়কালটি; আর তাই হয়তো ছেলেবেলাকার স্মৃতি এতটাই সুখের। সময়ের আবর্তনের সাথে সাথে আমাদের সকলের বয়স বেড়েছে, সকলেই হয়ে উঠেছি কর্মব্যস্ত। কিন্তু কিছু মুহূর্ত থাকে যা সেই ফেলে আসা ছেলেবেলাকার স্মৃতিগুলিকে আবার তাজা করে দেয়,বুকের ভেতরটা অজানা পুলকে শিহরিত করে তোলে ; আবার নতুন করে ফিরে পাই পুরোনো সেই দিনগুলিকে।
দৈনন্দিন রুটিনে বাঁধা ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে উঁকি মারা ছেলেবেলার নিষ্পাপ মনটা আর সরলতায় মাখানো অনুভূতিগুলো তাই নিঃসন্দেহে আমাদের বেঁচে থাকার পাসওয়ার্ড। সেরকমই কিছু ছেলেবেলার সুন্দর কথার ডালি সাজিয়ে আপনাদের কাছে পরিবেশন করছি,
ছেলেবেলা নিয়ে কিছু উক্তি / Bengali Quotes about Childhood
ইচ্ছে করে আবার একবার ছোটবেলাতে ফিরে যাইযেখানে শুধু মজা আর মজা,দুঃখ, কষ্ট, চিন্তাভাবনা কিছুই নাই ॥
ছোটদের আজ সময় কাটে হাতে হাতে ইন্টারনেটে,আগে যা কাটতি দৌড়ে ,লাফিয়ে, পায়ে পায়ে খেলার মাঠে।
ছেলেবেলার অপর নাম সরলতা।
ভুল করার সময়ই হল ছেলেবেলা ;যেখানে মানুষ ভুল করে শেখার জন্য।
সপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সব থেকে দরকারী; একটি সুন্দর এবং কৌতূহলী শৈশবের।
ছোটবেলা যেন কানে কানে আজ চুপিসারে এসে বলে,“বড় হতে চেয়েছিলিস না!! “মিটেছে স্বাদ তবে ?দেখ,এখন কেমন লাগে!
ছোটবেলাকার সবচেয়ে বড় অপমান !“তুই তো খেলতে পারিস না, যা তুই দুধভাত!”আজও তাই বাজে কানে কানেমনে মনে হাসি শুধু,বুঝি আজ ছোটবেলাটার মানে!
জীবনের সব ঋতুর মধ্যে সবথেকে আনন্দদায়ক হল ছেলেবেলার মরশুম ।
ছেলেবেলাকার বন্ধুত্ব সবথেকে সুখময় একটি স্মৃতি যা কখনো ভোলা যায় না; তা অটুট থাকে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের বন্ধনে।
নিজের ছেলেবেলার গল্প শোনার থেকে আনন্দদায়ক আর কিছু হতে পারে না ।
চু কিতকিত, কুমিরডাঙ্গা ,ধরাধরি আর লুকোচুরিএ সব ছিল রোজনামচা খেলতাম গিয়ে বাড়ি বাড়িএখনো করে খেলতে যেতে ,ঘড়িতে বাজলে বিকেল চারটে,সেই জোর আজ পাই না পায়ে, চোখেও পড়েছে কিছুটা মর্চে।
ছেলেবেলা কবে হারিয়ে গেলবড় হয়ে ওঠার ফাঁকে,আজও কি কেউ বিকেল হলে‘খেলবি’ বলে ডাকে?
বাদলা দিনে মনে পড়ে ছেলেবেলার সেই গান, “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান “।
স্বপ্নের মতন ছেলেবেলা মোরআসবে কি আর কখনো ফিরে?হৃদয় ছিল কবিতা মাখানোভালোবাসা ছিল জীবন ঘিরে।
ছেলেবেলানিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি স্কুল/স্কুলজীবন নিয়ে উক্তি সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
শৈশব নিয়ে বাংলা বাণী ও হোয়াটস্যাপ স্টেটাস ~ Bangla Quotes and Status about the Childhood Memories
যদি তুমি সারা জীবন শৈশব নিয়ে চলতে পারো, তাহলে বার্ধক্য কখনো আর আসবে না ।
দিনগুলো মোর সোনার খাঁচায় রইল না,রইল না ,সেই যে আমার ছেলেবেলারনানা রঙের দিনগুলি।
ছোটবেলা মানেই রান্নাবাটিলুকিয়ে পরা মায়ের শাড়িছোটবেলা মানে হাজারো বন্ধুএই ভাব আবার এই আড়ি।
আজও রোজ বিকেল হয়,কিন্তু বিকেলে ধুলো মেখে ফিরে এলেবাবার চোখ রাঙানি আর মায়ের বকুনিখেতে হয় না;সেই বকুনির মধ্যেও কোথায় যেন মাখামাখি হয়ে ছিল একরাশ আবেগ অনুভূতি অর ভালোবাসা ।
যখন ছিল না হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক ইন্টারনেট বা ইউটিউব,বিকেল হলেই ছিল শুধু খেলাসকাল মানেই সাজি নিয়ে ফুল তোলা,আজ রাত দশ টার মধ্যেই বিছানায় যাওয়া সারাটা দিন আনন্দে কেটে যেত খুব।
শৈশব আজ ফেলেছি হারিয়েদিনগুলো আর নেইমনের কোণে আজও পড়ে আছেছোট ছোট স্মৃতি সেই ।কোথায় যেন হারিয়ে গেছেহাসিখুশি আর খেলাচাইলেও ফিরে পাব না যে আরপুরোনো সেই ছেলেবেলা।
ছেলেবেলার রোদমাখা সেই দিনফিরে আর আসবে কি কখনও,খুশি আর আনন্দে মাখামাখি সেই হাসিতুই আর হাসবি কি কখনও?ফিরে যে আসবে না আর কখনো।
বাস্তব বড় কঠিন; বাঁচা হয়ে উঠেছে দায়,ছেলেবেলার দিনগুলিতে তাই মন ফিরে যেতে চায়।
ছেলেবেলা নিয়ে শায়েরি ও কবিতার অংশবিশেষ / Bengali Shayeri and Poems on Childhood
একা একা পথ চলা,একা একা কথা বলা-হাজার মানুষের ভীড়ে মিশেভোরের কোলাহল ঘুমের শেষে,দু’চোখ আজো খুঁজে ফেরেফেলে আসা ছেলেবেলা।
একদিন দল বেঁধে কজনে মিলেযায় ছুটে খুশিতে হারাতে।এই পথ খুঁজে, সব ভয় মুছেকেউ তো জানেনা মনেরই ঠিকানা।
সেই মায়ের গানে ঘুমের পরী,আজো থেমে আছে সময়ের ঘড়ি।সেই ঝিম ধরা দুপুর বেলা,ঘুমে জাগরনে হারানো খেলাছেলেবেলা ছেলেবেলা।
মা গো, আমায় ছুটি দিতে বল্,সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।এখন আমি তোমার ঘরে বসেকরব শুধু পড়া-পড়া খেলা।তুমি বলছ দুপুর এখন সবে,নাহয় যেন সত্যি হল তাই,একদিনও কি দুপুরবেলা হলেবিকেল হল মনে করতে নাই?
একবার যেতে দে না আমার ছােট্ট সােনার গাঁয়ে,যেথায় কোকিল ডাকে কুহুদোয়েল ডাকে মুহু মুহুনদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়।”
একলা খাওয়া টিফিন,স্কুল এর করিডোরেছায়ার সাথে লড়াই,তোকে দেখবো কেমন করে।তোর জন্য খোলা টিফিন বক্স,ভাগ করে খাওয়া টিফিন বক্স ।
এই ছোট্ট ছোট্ট পায়েচলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাবো,এই ছোট্ট ছোট্ট পায়েচলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাবো।সেই চাঁদের পাহাড় দেখতে পাবো,সেই চাঁদের পাহাড়, মাথায় যাহাররামধনু রাঙা হয়ে দেখতে পাবো।ঠিক পৌঁছে যাবো।
ছেলেবেলার বৃষ্টি মানে বিশ্বজোড়াছেলেবেলার মানে অবাক বিস্ময়ভরাআয় বৃষ্টি চলে সেই কিশোরের কোলে।।গেরস্থালি ফেলে কিচ্ছুটি না বলেছেলেবেলার বৃষ্টি……।
ছোট্টো সেই ছেলেবেলাহাসি খুশি আর খেলারঙিন রঙিন যে ছিলকেন যে সে দিন ফুরালোকেন যে সে সুখ হারালো।
সাথে পুতুল ছিলসোনালি চুল ছিলদু গালে টোল ছিলমাথাটা দুল ছিলমায়ের কোল ছিলছায়া আঁচল ছিলসময় ও চলছিলছোট্টো সেই ছেলেবেলাহাসি খুশি আর খেলাকত রঙিন যে ছিল ।
বেলুন চড়ব চল চলে যাইরূপকথারই রাজ্যেপায়রা ভুতুম হুতুমপেঁচাসঙ্গে যাবে আজ যেহাঁইয়ো হাঁই আরে ভাইভাসাই মেঘের ভেলা রেআয় আয় আয়রে ছুটে,খেলবি যদি আয়,নতুন সে এক খেলা রে।
প্রকৃতি নিজস্ব সম্ভার দিয়ে মানবজাতিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। কিন্তু অজ্ঞ এবং অকৃতজ্ঞ কিছু মানুষ যারা প্রকৃতির এই অশেষ দান মনে রাখে না তারা প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবেশকে নষ্ট করে প্রকৃতিতে ধ্বংসের খেলা য় মেতে উঠেছে । প্রকৃতি প্রতিহিংসাপরায়ণ না হলেও ও মানুষের মতো সে ও প্রাণের দাবি রাখে। সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বোধের মাত্রা তারও তো আছে ।
তাই এভাবে চলতে থাকলে সমগ্র মানবজাতি ই একদিন অবলুপ্তির পথে এগিয়ে যাবে। তাই এই কঠিন সময়ে মানবজাতি নিজেকে আরো সংযত করে, সদর্থক কিছু উদ্যোগ নিয়ে যদি এগিয়ে আসে তাহলে আমাদের আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর পৃথিবী , এক কলুষ মুক্ত প্রকৃতি উপহার হিসেবে পাবে।
ছেলেবেলানিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
পরিশেষে, Conclusion
ছেলেবেলানিয়ে উক্তি সংক্রান্তআজকের এই পোষ্টটি আপনাদের পছন্দ হলে আশা করব আপনারা আপনাদের বন্ধু মহলে, পরিজনকেও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টটি শেয়ার করে নেবেন।