কুরআনের নসিহতগুলো যেকোনো মুমিন মুসলমানের জন্য এক অনন্য তোহফা। এর উপদেশগুলো ইসলামের মুমিন বান্দাকে প্রতি পদক্ষেপে যেমন সতর্ক করে তেমনি সফলতার পথও দেখায়।
ইসলামীদের বিশ্বাস অনুযায়ী বেঁচে থাকতে তাদেরকে অবশ্যই পবিত্র কোরআন কারীমের সকল রকম আদেশ তথা আল্লাহর উপদেশ সমূহকে মান্য করেই জীবন গঠন করতে হবে, অন্যথায় পরকালে মানুষকে ভয়ঙ্কর শাস্তির মুখামুখী হতে হবে। আজকের এই প্রতিবেদনে কুরআনের কিছু উপদেশ তুলে ধরার চেষ্টা করবো, যা জীবনের চলার পথে সকলের ক্ষেত্রেই সহায়ক হতে পারে।
কুরআনের নসিহত সমূহ, Admonitions of the Quran
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা দায়িত্বশীল (শাসক-বিচারক) তাদের আনুগত্য কর। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়েও উত্তম।”
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না।
সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো।
নিজের জীবনে সব সময় মধ্য-পন্থা অবলম্বন কোরো।
পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোরো না।
সত্যের উপর সব সময় অবিচল থেকো।
কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি কোরো না।
অবশ্যই লজ্জা এবং শালীনতার সাথে চলাফেরা করবে।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না।
যদি ঋণী কখনো অভাবগ্রস্ত হয় তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও।
যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো।
মাতা পিতার ঘরে প্রবেশের পুর্বেও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবে।
সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো।
গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান কোরো না এবং পরনিন্দা কোরো না।
পাপ কাজ এবং অবৈধ জিনিসের পিছনে সময় বা শ্রম ব্যয় কোরো না।
সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য নিষেধ করো।
সৃষ্টিজগতের ভিতর আল্লাহকে খোঁজার চেষ্টা করো।
পৃথিবীতে ভ্রমন কর এবং দেখো, যারা সত্য কে অস্বীকার করেছিলো তাদের কি অবস্থা হয়েছিল।
না বুঝে ভুল করলে, পরে যদি ভুল বুঝতে পারো তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও।
জীবন সুন্দর করা কুরআনের উপদেশ, Quranic advice to make life beautiful
পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ।
কার্পণ্য কোরো না।
উপস্থিত থাকা অতিথিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।
মানুষের প্রতি সব সময় ন্যায় বিচার করবে।
যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা কোরো ও নিরাপত্তা দাও।
নিজে কৃপণ হইয়ো না আর অপর কে এই শিক্ষা দিও না।
বিদ্বেষী হয়ো না।
মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো।
সব সময় অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করো।
পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো।
একে অপরকে হত্যা কোরো না।
বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক কোরো না।
ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো।
সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো।
সব সময় মন্দের বিপরীতে ভালো কাজ করো।
তোমরা সৎ কাজে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা কোরো।
আল্লাহ্র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না।
ঋণ-অভাবগ্রস্থ মানুষের প্রতি সদয় হও।
আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়।
কেউ যদি অপরাধ করে তাহলে তাকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিও ।
সব নবী-রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।
তোমরা অন্যায়ভাবে কারো অর্থ-সম্পদ দখল বা ভোগ
কোরো না।
আল্লাহ্ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না।
সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না।
যারা অজান্তে ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন।
কারো আমানতের খিয়ানত কোরো না।
অন্যের দোষ খুঁজে বেড়িয়ো না
প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত।
আল্লাহ্ তাআলার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। তিনি মহাক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
তোমরা নিজেরা সৎ কাজ করো এবং ওপরকে সৎ কাজের নির্দেশ দাও।
কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না।
পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।
পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না।
দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না।
যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ট।
তোমরা অবশ্যই সত্যকে মিথ্যার সাথে একত্রিত কোরো না এবং সত্য জানা থাকলে তা কখনও গোপন কোরো না।
আল-কোরআনের বর্ণিত এমন কিছু বাণী বা উপদেশ রয়েছে যা অমুসলিমরাও নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন, এইসব উপদেশগুলো জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে। আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা কোরআনে উল্লেখিত কিছু উপদেশমূলক বাণীসমূহ আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আশা করি আজকের এই পোস্ট ভালো লেগেছে। এই পোস্টটি যদি আপনাদের মনোগ্রাহী হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার আত্মীয় পরিজন ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারেন। এরূপ আরো পোস্ট পাওয়ার জন্য নজর রাখুন আমাদের এই ওয়েবসাইটে।