শুভ পৌষ পার্বণ | পৌষ পার্বণ নিয়ে সুন্দর কিছু লাইন, কবিতা ও শুভেচ্ছাবার্তা | Happy Poush Parbon Nie Ukti, Kobita, Shayeri


বাঙালি মানেই বারো-মাসে তের পার্বণের আর এই বিবিধ সব পার্বণের মধ্যে অন্যতম একটি পার্বণ হল পৌষ-সংক্রান্তি যা পৌষ-পার্বণ নামেও বহুল প্রচলিত। পৌষ পার্বণ হল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে পালিত একটি  জনপ্রিয় হিন্দু লোকউৎসব। বাংলা পৌষমাসের  শেষ দিন বা সংক্রান্তিতে এই উৎসব পালিত হয়।এই উৎসব মকরসংক্রান্তি নামে ও অতি সুপরিচিত । মকরসংক্রান্তি শব্দটি দ্বারা নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশ করাকে ইঙ্গিত করে। 

শুভ পৌষ পার্বণ

সুপ্রাচীন লোকাচারের মাধ্যমে বাংলার গৃহবধূরা পৌষ মাসকে এভাবে আপন করে ধরে রাখার প্রয়াস করে থাকে । রাঢ়বঙ্গের একটা বিরাট অংশ জুড়ে চলা এই পার্বণ প্রত্যেক বাঙালির জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে রয়েছে । নিম্নে উল্লেখ করা হলো পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ সম্পর্কিত কিছু জনপ্রিয় লাইন, কবিতা এবং শুভেচ্ছা বার্তা।

পৌষ পার্বণে শুভেচ্ছা বার্তা

  • মকর সংক্রান্তির এই বিশেষ এবং পবিত্র দিনটিতেসুখে থাকুক সবাই,এসো সবাই মনের দরজা প্রসারিত করি ,আনন্দে, ভালোবাসায় ও খুশিতে আজকেরদিনটি কাটাই…শুভ পৌষ পার্বণ !
    লক্ষ্মীদেবীর আশীর্বাদেপৃথিবী থেকে দূর হোকসব দুঃখ-কষ্ট; রাগ বিদ্বেষ ব্যথা-বেদনা, পাপ-অন্যায়,পৌষ সংক্রান্তির এই পূণ্য-পাবনেসবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
  • ‘”পৌষপার্বণে পিঠে পুলি মহা ধুমধাম; ঘরে ঘরে পিঠে করে ধন্য হয় পল্লিগ্রাম। গুড় আর তিল সহকারে,গড়ে পিঠে কেউ,পল্লী গ্রামে বয়ে যায়,আনন্দ আর খুশির ঢেউ।”~মকর সংক্রান্তির আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই !
    পৌষ পার্বণের এই পবিত্র দিনে,মা লক্ষ্মীর আশীষ পড়ুক তোমার ওপর সর্বদা ,সবার জীবন সুখ-শান্তিও আনন্দে পরিপূর্ণ থাকুক।শুভ পৌষ সংক্রান্তি র আন্তরিক শুভকামনা রইল !
  • বেদনা গুলি ভুলে গিয়েপৌষ পার্বণের খুশিতে মেতে উঠুক সবার মনপ্রত্যেকটি ঘরে ঘরে উপচে পড়ুক সমৃদ্ধি ও ধন! সকলকে পৌষ সংক্রান্তিরশুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
    পৌষ পার্বণ নিয়ে সুন্দর কিছু লাইন, কবিতা ও শুভেচ্ছাবার্তা
  • পৌষ পার্বণ বয়ে আনুক আনন্দ আর সুখ,মুছে যাক সব গ্লানি , বিষণ্ণতা আর দুখ।শুভ পৌষ পার্বণের আন্তরিক শুভেচ্ছা !
    আসন্ন পৌষ পার্বণ আপনার সকলের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্থতা বয়ে নিয়ে আসুক,এই কামনা নিয়েই আপনাকে ও আপনার পরিবারের সকলকে শুভ পৌষ সংক্রান্তির শুভেচ্ছা জানাই।
  • পৌষ পার্বণের এই বিশেষ দিনটিতে সকলে মিলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, অনাবিল আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটা মুহূর্ত ;আর জমিয়ে পিঠে-পায়েস খান এবং অন্যকে খাওয়ান !শুভ পৌষ পার্বণ !!
  • পৌষ পার্বণের এই পুণ্য তিথিতে আপনি এবংআপনার পরিবারে অাসুক কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি এবং আপনার সকল স্বপ্ন সত্যিতে পরিণত হোক !!শুভ পৌষ পার্বণ!”
  • আঘ্রাণে আমােদিতপুলকিত প্রাণপৌষের ডাকে তাকেভাসিয়ে দিলাম…”পৌষ পার্বণের এ পূণ্য লগ্নে সকলকে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা এবং একরাশ শুভেচ্ছা !
  • পিঠে পায়েসের পরব এলােপ্রতিটি বাড়িতে উঠল সাজো সাজো রব ; শীতের আমেজে রসনা তৃপ্তি হোক জমিয়ে !! পৌষ পার্বণের হার্দিক শুভেচ্ছা !
  • “পিঠে পুলি-শস্য দুলে,শীতের মাতাল বাতাসে,জানায় শুভেচ্ছা সংক্রান্তিরভোরের আকাশে।”পিঠের আদরে, নলেনগুড়ের সুমিষ্ট স্বাদেমাতব সবাই পিঠে পুলির অমোঘ টানে !! ”~ শুভ হোক পৌষসংক্রান্তি !!
    আশা করি মকর সংক্রান্তিরনতুন সূর্য,আপনার ও আপনার পরিবারের সকলের জীবনে প্রচুর আনন্দএবং সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ করে তুলবে।শুভ মকর সংক্রান্তি !!
    পৌষ পার্বণের মতোই খুশিতে ভরে উঠুক আপনার প্রতিটি দিন।সুন্দর হোক আগামী জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ;পূর্ণ হোক অন্তরের সব চাওয়া পাওয়া।শুভ পৌষ পার্বণ!!!
    Happy Poush Parbon Nie Ukti, Kobita, Shayeri
  • “হরেক ঘরেতে দেখো পিঠের রকমটা কোথাও পুলির চল ; কোথাও বা পাটিসাপটা পিঠে তো আছেই, সাথে রয় প্রায়েশান্ন , খায় তা গরিব আর চাখে মহামান্য !গুড় পিঠে, ভাপা পিঠে ,কতই না প্রকারের ,গোকুল, গোলাপ পিঠে কাঁঠালেরই পিঠা রে !!”~~~ শুভ পৌষ পার্বণ !!
    “পেটের খেয়াল রেখো ;রেখো নাকো ভ্রান্তি পিঠেময় কেটে যাক মকর সংক্রান্তি ॥”পৌষ পার্বণ কাটুক স্বাদে গন্ধে এবং আনন্দে !
    “আসিয়াছে পৌষ আজ আসিতেছে সংক্রান্তিসবমিলে করিব উৎসব দূর হবে সকল ভ্রান্তি কৃষকের গোলা আজ পরিপূর্ণ ধানে ওদের মনে যে অাজ পরম শান্তি । পিঠাপুলি খাবে আজ দূর হবে সকল ক্লান্তি “~~ মকর সংক্রান্তির পূণ্য লগ্নে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা , ভালোবাসা ও অভিনন্দন !
  • গুড় পিঠে ,নারকেল পিঠে আরো কত প্রকার,সকলে মিলে গড়ে পিঠে কতই বা তার বাহার ।কেউ আবার পিঠে গড়ে ,গুড় আর তিল দিয়ে ,খুশীর ঢেউ বয়ে যায় বাঙালির পাড়াগাঁয়ে !সারা পিঠে , ভাপা পিঠে আর পাটিসাপটা ,নলেন গুড়ের গন্ধে আজ ভাসে চারিদিকটা।পিঠে~ময় হোক পৌষ পার্বণ! আন্তরিক শুভেচ্ছা পাঠালাম ।
পৌষ পার্বণ নিয়ে সুন্দর কিছু লাইন, কবিতা ও শুভেচ্ছাবার্তা

পৌষ পার্বণ নিয়ে কবিতাসমূহ

  • “পৌষ এল, পৌষ এলখুশি খুশি রব তাই ,পৌষ-পার্বণের দিনে পিঠেপেট ভরে খাওয়া চাই ।মকর-সংক্রান্তির স্নান সেরেতুষু পূজা করে,সূর্যোদয়ের আগে রাখি আঙ্গিনাআল্পনাতে ভরে ।রাতের তৈরী পিঠা দিয়েসূর্যদেবকে পূজা,তারপর সারাদিনকরবো খুব মজা ।সেদ্ধ পিঠে, কুলি পিঠে, অন্নদা,রাঙা-আলুর পিঠে, পাটি-সাপটা, ছাঁচ,চন্দ্র পুলি, দুধ পুলি, তেলেভাজা -ভিন্ন স্বাদে রান্নার কাজ ।গ্রামাঞ্চলে পূজার রীতিপালিত হয় বেশ ।শহরেতে শুধু পিঠা খাওয়ারীতি পালনে নেই ক্লেশ ।ভেজানো ছাঁচের পিঠেখাওয়ার আলাদাই মজা,এই পিঠে হলো যেনরাজার চেয়েও রাজা ।যুগ যুগ পৌষ-পার্বণ থাকুককরি এই কামনা ,সকলকে করি আমন্ত্রণনা খেয়ে কেউ যাবেন না ।”
  • পৌষমাসের রাত্রি শেষে করে সবে মিলে টুসু জাগরণ রাতভর টুসু গান উৎফুল্লিত আজ সবার মন সবাই মিলে পরের দিনে নদীর ঘাটে করে মকর স্নানকত উৎসবে মহা আনন্দে পালিত হয় পৌষপার্বণ !
  • পিঠের পরব এল; এল সংক্রান্তিখাও পিঠে পেটপুরে পাবে বড় শান্তি পেটে খেলে পিঠে সয় শেখালেন গুণীজন পিঠে খেলে পেটে রয় উল্লাসে নাচে মন পিঠে পিঠে গন্ধ তেপাড়া ম ম করছে পিঠোপিঠি ভাইবোনে পিঠে নিয়ে লড়ছে!
  • “পৌষ পার্বণের সেদিন গুলো হারিয়ে গেল কই,ন্যাড়ার ঘরে রাতটি জেগে কতইনা হৈচৈ!?মা পিসি আর কাকী,জেঠী”র নেই যে চোখে ঘুম,নানান রকম পিঠে পুলি’র লেগেছে যে ধুম!কার বাড়ীতে কেমন পিঠে কোন পিঠেটা স্বাদ,হরেক রকম পিঠে খেয়েও মিঠতো না যে সাধ!ভোর বেলাতে সিনান করে কাঁপতো গা থরথর,শরীরটাকে করতে গরম পুড়িয়ে ন্যাড়ার ঘর!নাটাই সুতোয় উড়তো ঘুড়ি দূর আকাশের গায়ে,সারা টা দিন কাটতো সময়পাড়ায় পাড়ায় গাঁয়ে! পুরোনো সে দিন গুলো সব এখন শুধুই স্মৃতি,হারিয়ে গেছে আজ যেনো সব সৌহার্দ্য সম্প্রীতি!!”
  • পৌষের শেষে সাগর সঙ্গম স্নানেহয় যে পুণ্যবাংলার পিঠেপুলি স্বাদেও সৌরভে অনন্য বাঙালি খেতে জানে, খাওয়ানেতেও বেশ ,পৌষের শুরু হল মাঘেও হবে না শেষ। বাসনায় রসনা মিলে মেতে ওঠে নলেনে,মৌ মৌ সুবাসে বাংলার স্বাদ ,পাবে না কোনো খানে ।
  • “নদীর ঘাটে বসেছে আজ,মকর সংক্রান্তির মেলা,বসেছে দোকান সারি সারি,আর সার্কাসের খেলা।দু আনার কেনা মাটির পুতুল,তিন আনার বাঁশি,হরেক মাল পাঁচ সিকে দাম,সেথায় ভিড় বেশি।ময়রা ভোলা বসেছে দোকানে,টাঙায়েছে সামিয়ানা।রসগোল্লা আর পানতোয়া,সব পাবে আনা আনা।আলুর চপ ও তেলেভাজা,পাবে তার দোকানে,চায়ের ও পানের দোকান,বসেছে এক কোণে।মনিহারীর দোকান কত,বসেছে সারি সারি,পুঁতির মালা ও কানের দুল,দেখতে সুন্দর ভারি।চুড়ি, মালা, খোপার বল,কিনতে ইচ্ছে হয়,দাম শুনে মাথায় হাত,কিনতে লাগে ভয়।মেলার মাঝে খোকন সোনা,কাঁদছে বসে একা।হারিয়ে গেছে বাবা মা তার,পায় না কেন দেখা ?হাসির চেয়ে কান্না দামী,আজকে মেলার ভিড়ে,বসেছে মকর-সংক্রান্তির মেলা,অজয় নদীর তীরে ।”
  • “পিঠে পিঠে পিঠে,—ভাবছি যতই খাবার কথালাগছে ততই মিঠে;পিঠে পিঠে পিঠে।ঐ চড়েছে রসের ভিয়ান,আসছে রসের ছিটে;পিঠে পিঠে পিঠে।নলেন গুড়ের সৌরভে আজমশগুল যে ভিটে;পিঠে পিঠে পিঠে।ক্ষীর-নারিকেল লাগবে আরো?নিয়ে যা হাতচিঠে;পিঠে পিঠে পিঠে।কম খেলে আজ হবে রে ভাইমেজাজটা খিটখিটে;পিঠে পিঠে পিঠে।পুসি বিড়াল পাতছে আড়ি,চোখ দুটো মিট্‌মিটে;পিঠে পিঠে পিঠে।এই রে, কেন তাড়িয়ে দিলিএকখানা থান-ইঁটে?পিঠে পিঠে পিঠে।রসপুলি আর গোকুল-চসিররস যে গিঁটে গিঁটে;পিঠে পিঠে পিঠে।
    পিঠের লোভে হল্লা করেকাকগুলো ডানপিটে;পিঠে পিঠে পিঠে।শীতের ভোরে ঠাণ্ডা হাওয়ায়হাত-পা হ’ল সিঁটে;পিঠে পিঠে পিঠে।রসের কড়াই নামাও এবার,গুড় যে হ’ল চিটে;পিঠে পিঠে পিঠে॥”

পার্বণের এই বিশেষ দিনটিতে হিন্দুরা পিঠে প্রস্তুত করে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করে থাকে । পৌষ সংক্রান্তির দিনটিতে রাঢ়বঙ্গের গৃহবধূরা সন্ধ্যের পর বাড়ির দরজায়, ধানের গোলায়, ঠাকুর মন্দিরে, খড়ের গাদায় পৌষ কে আহ্বান করে থাকে । তারা দিনের বেলায় গোবরের নাড়ু তৈরি করে রাখে এবং আলপনার ওপর সেই নাড়ু গুলিকে সাজিয়ে দেয় এবং তার ওপর চালের গুড়ি, ধান-দূর্বা, সর্ষের ফুল, মুলোর ফুল দিয়ে উলুধ্বনি- শঙ্খধ্বনি করে “পৌষ আসছে গুড়িগুড়ি পৌষের মাথায় চালের ঝুড়ি।

এসো পৌষ যেওনা- – -; এ ধরনের লোক গাথা পরিবেশন করে থাকে। পৌষ মাসকে ধরা হয় লক্ষ্মীর মাস এবং ধারণা করা হয় যে এই মাসে গৃহস্থের মঙ্গল হয় । তাই হিন্দু ঘরে ঘরে লক্ষ্মী দেবীকে আহ্বান করা হয় যাতে তিনি গৃহস্থের ঘর ছেড়ে চলে না যান।

Viral Telegram Channel 🔥

Recent Posts