ভাষা হল মানুষের অভিব্যক্তি প্রকাশের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম । বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন জাতি নির্বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা উপস্থিত; আর সেই ভাষাতেই তারা সাবলীল ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে।প্রত্যেক ভাষারই একটি আলাদা মাধুর্য আছে এবং মর্যাদা আছে তাই প্রত্যেক ভাষাকেই সমানভাবে সম্মান করা উচিত কারণ ভাষা ভিন্ন হলেও অভিব্যক্তি একটাই। নিচে উল্লেখ করা হল ভাষা নিয়ে উক্তি সমূহ এবং মনোগ্রাহী কিছু কথা।
আমার মায়ের ভাষা এসেছে আমার অনেক ভাইয়ের রক্তের বিনিময়েতাইতো আমরা বলিআমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিআমি কি ভুলিতে পারি
ভাষা শহীদের বলিদানের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা আমাদের মাতৃভাষা;ধন্য হয়েছে এই বাংলা ধন্য হয়েছি আমরা কারণ , আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষা।
একটি ভিন্ন ভাষা জীবনের একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ।
আমার ভাষার সীমা মানে আমার জগতের সীমা ।
ভাষা হল চিন্তার পোশাক।
মানবজীবনের সবথেকে কৃতিত্ব হল মুখের ভাষাকে আয়ত্বে রাখতে সমর্থ হাওয়া।
এক এক সমাজের সকল মানুষের অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টি হলো ভাষা
প্রকাশ করার ভঙ্গি এবং ভাষা দুটোই মানুষকে আকৃষ্ট করে
মা এবং মায়ের মুখের ভাষা ; দুটোর মূল্যই সমান
কারও কারও মুখের ভাষা অস্ত্রের মতো ধারালো।
যে জাতি তার দেশ ও ভাষাকে যত বেশি মর্যাদা দেবে সে দেশ তত বেশি উন্নত হবে
ইংরেজি আমাদের পক্ষে কাজের ভাষা কিন্তু ভাবের ভাষা নয়
দেশ ও জাতির বড় সম্পদ তার ভাষা ও সাহিত্য। সব দেশে, সব যুগে ভাষা ও সাহিত্য শিল্পকে অবলম্বন করেই সম্ভব হয়েছে সবরকম উন্নতি ও প্রগতি
নিজের ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে হলে বিদেশি ভাষা সম্বন্ধে জ্ঞানার্জন করতে হবে
ভাষা হচ্ছে ইতিহাসের দলিল এবং কবিতার জীবাশ্ম
প্রাচীন সাহিত্যে ভাষা অলংকারের আতিশয্যে অবনত
কোনো বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক পৃথিবীর কোনো ভাষায় সৃষ্টি হয়নি, মানবসমাজ যুগ যুগ ধরে অলক্ষিতে একটি ভাষা গড়ে তোলে।
ভাষা হচ্ছে পবিত্র মন্দিরের মতো যেখানে মানুষের আত্মা পরম নিশ্চিন্ত আশ্রয় খোঁজে।
স্বল্পভাষী মানুষই সর্বোত্তম
ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, কলমের মুখ হতে মানুষের মুখে নয় । উল্টোটা চেষ্টা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।
ভাষা ও বক্তৃতা দেওয়ার শক্তি হল ঈশ্বরের সরাসরি দান।
ভাষা নিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
ভাষা নিয়ে লেখা, Beautiful lines about language in Bangla
ভাষা হচ্ছে মন্দিরের মতো যেখানে আত্মা বিচরণ করে।
দুনিয়ার সকল মানুষই মাটির ভাষায় কথা বলে।
দয়া হলো এমন এক ভাষা যা বধির ও শুনতে পায়, অন্ধরাও দেখতে পায়।
নিজের মাতৃভাষা জানার পাশাপাশি অন্য একটা ভাষা জানা থাকা মানে আপনার শরীরে একটি অতিরিক্ত আত্মা পরিবহন করার ও প্রয়োজনীয়তা আছে ।
ভাষা হলো আত্মার রক্ত যার মধ্যে চিন্তা -চেতনা বিকাশ লাভ করে এবং সেগুলো প্রকাশও পায় ভাষারই মাধ্যমে।
কি আমাদের মানুষ করে তোলে? আমার কাছে এই প্রশ্নের উত্তর হলো : কোনকিছু নিয়ে প্রশ্ন করার ক্ষমতা এবং পরিশীলিত কথ্য ভাষার ব্যবহার।
একজন কবি; অন্য সকল পরিচয়ের আগে তিনি এমন একজন ব্যাক্তি, যে তার ভাষার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী।
আপনি যদি একজন মানুষের সাথে এমন ভাষায় কথা বলেন যা সে বোঝে, সেটা তার মাথায় প্রবেশ করে। আপনি যদি তার সাথে তার ভাষায় কথা বলেন, সেটা তার হৃদয়ে প্রবেশ করে।
সংগীত হচ্ছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ যোগাযোগ মাধ্যম । আপনি যে ভাষায় গান গাইছেন তা যদি মানুষ বুঝতে না ও পারে, তবুও তারা যখন গনটি শোনে, তখন তারা উপলব্ধি করতে পারে যে সেটি একটি ভালো গান।
ভাষার বিকাশ ব্যক্তিত্বের বিকাশের অংশ, কারণ শব্দগুলি চিন্তা প্রকাশ এবং মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া প্রতিষ্ঠার স্বাভাবিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে।
ভাষা একটি অতি আধুনিক প্রযুক্তি। এমনকি আপনার কথা বলার মাধ্যমে যে ভাষায় প্রকাশ করেন তা শুরু করার আগেই আপনার শরীরের ভাষা, আপনার চোখ, আপনার শক্তি আপনার শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যাবে।
অন্য ভাষা শেখা কেবল একই জিনিসের জন্য বিভিন্ন শব্দ শেখা নয়, বরং জিনিসগুলি সম্পর্কে চিন্তা করার অন্য উপায় শেখা।
নানান দেশের নানান ভাষা/বিনে স্বদেশীয় ভাষা, পুরে কি আশা?/কত নদী সরোবর কিবা ফল চাতকীর ধারাজল/ বিনে কভু ঘুচে কি তৃষা?
যে ব্যাক্তি তার নিজের ভাষা ভালবাসে না, সে পশু এবং দুর্গন্ধযুক্ত মাছের চেয়েও নিকৃষ্ট।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আপনি যা দেখছেন তা বর্ণনা করার জন্য ভাষা হারিয়ে ফেলা হলো মুগ্ধতার সেরা অনুভূতি।
অনুভূতি বা আবেগ হল সর্বজনীন ভাষা এবং এই ভাষাই সর্বোচ্চ সম্মানের দাবিদার। এগুলি হল প্রকৃতপক্ষে মানব হৃদয়ের গভীরতম স্থানে কি আছে তার ই খাঁটি অভিব্যক্তি।
এককালে পৃথিবী বইয়ের উপর কাজ করত, এখন বই-ই পৃথিবীর উপর কাজ করে
এক দোর বন্ধ হলে দশ দোর খুলে যায়; বোবার এক মুখ বন্ধ হলে দশ আঙুল তার ভাষা তর্জমা করে দেয়
বিশ্বের সকল মানুষ, সকল ভাষাভাষী মানুষই একই ভাষায় হাসে কারণ ভাষা হলো একটি সার্বজনীন মাধ্যম।
চিন্তা করার সময় অবশ্যই জ্ঞানীর মতো চিন্তা করুন কিন্তু যখন আপনি আপনার সেই জ্ঞান বা চিন্তাধারা প্রকাশ করবেন, তা অবশ্যই সাধারণের ভাষাতেই করতে হবে।
বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে
স্বাধিকার সংগ্রাম থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। আজ যদি সেই জাতীয়তাবাদী চেতনা বিসর্জন দিয়ে পশ্চিমি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ করি তা আমাদের চরম দীনতা ও নৈতিক পরাজয়। আমাদের বিশ্বায়নের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন বাংলায়ন
অনেক ভাষাই তুলেছি এ মুখে – বাংলায় শুধু গভীর, গহন উঠে আসে সম্মুখে; আমি বিশ্বকবিকে বুকে নিয়ে পাই নতুন গানের প্রাণ।
আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ঐতিহ্য, নৈতিকতার বিকাশ খুব গুরুত্বপূর্ণ যা একটি জাতিকে একত্রিত করে , আর সেটিকে একটি সুতোয় বাঁধতে গেলে এসব জিনিস এক অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।
শারীরিক ভাষা একটি খুব শক্তিশালী হাতিয়ার। কথা বলার ভাষা আবিষ্কার হওয়ার আগেও আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল, এবং দৃশ্যত, আপনি কথোপকথনে যা বোঝেন তার ৮০% শরীরের মাধ্যমে বোঝানো হয়, এগুলো ভাষার অন্তর্গত কোনো শব্দ নয়।
বক্তৃতা, যা ভাষাকে অবহিত বা প্ররোচিত করার জন্য বলা হয়ে থাকে, কিংবা জনমত গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমরা খুব সহজেই ভাষা দ্বারা মানুষকে বোকা বানাতে পারি, কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ভাষা নিয়ে খেলতে জানতে হবে।
ভাষা নিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি ভাষা দিবসের শুভেচ্ছা সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
ভাষা নিয়ে কবিতা, Poetic phrases about language
মোরা সেই ভাষাতেই করি গান,মোরা সেই ভাষাতেই করি গান,রাজা শোন ভরে মন প্রাণ।এ যে সুরেরই ভাষা, ছন্দেরই ভাষাতালেরই ভাষা, আনন্দেরই ভাষাভাষা এমন কথা বলে বোঝা রে সকলেএমন কথা বলে বোঝা রে সকলেউঁচা-নিচা ছোট বড় সমানরাজা উঁচা-নিচা ছোট বড় সমান।মোরা এই ভাষাতেই করি গানমহারাজা তোমারে সেলাম।
একুশ মানে চেতনা আমার,মায়ের ভাষায় কথা বলার;একটা স্বাধীন দেশের জন্য,সবাই মিলে যুদ্ধ করার।একুশ মানে লুকানো বীজ,একাত্তরে ফলবে ফসল;রাজপথের ঐ রক্তের দাগ,একদিন তা হবেই সফল।একুশ মানে ফিরে পাওয়া,আমার সকল অধিকার;বুক ফুলিয়ে বলতে পারি,বাংলা আমার স্বাধিকার।
চোখের ভাষা যদি বুঝতে পারিনা বলা কথা যদি শুনতে পারি,তবে করিনি যে ভুল,আমি এক চুলতুমি যে আমার ওগোতুমি যে আমার,প্রেমের ভাষা সে যে একটি ভাষাভালবাসা সে যে ভালবাসা,এ যে স্বর্গের কুল,এতে নেই কোন ভুলতুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার।যে কথা জানাও তুমি চোখের ভাষায়আমার যে কথা গুলো গান হয়ে যায়,আমি গান গেয়ে তাই সবারে জানাইতুমি যে আমার ওগোতুমি যে আমার।
মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা!কী যাদু বাংলা গানে! গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা ||ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা, আনল দেশে ভক্তি-ধারা,আছে কৈ এমন ভাষা এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা ||বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন, হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন :ঐ ফুলেরই মধুর রসে বাঁধলো সুখে মধুর বাসা ||বাজিয়ে রবি তোমার বীণে, আনলো মালা জগত্ জিনে!তোমার চরণ-তীর্থে আজি জগত্ করে যাওয়া-আসা ||ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে, ডাকনু মায়ে ‘মা, মা’ ব’লে ;ঐ ভাষাতেই বলবো হরি, সাঙ্গ হ’লে কাঁদা হাসা ||
নানা ভাষা, নানা মত নানা পরিধান,বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান;দেখিয়া ভারতে মহা জাতির উথানজগজন মানিবে বিস্ময়
ভাষা নিয়ে উক্তিসমূহ আশা করি আপনাদের মনোগ্রাহী হয়েছে।পোস্টটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা নিজের বন্ধু ও পরিজনদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এরকম আরও অনেক ধরনের উক্তিও ক্যাপশন নিয়ে আসব আমরা সামনের প্রতিবেদনগুলিতে।