অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ অ্যাডলফ হিটলার মানবসভ্যতার ইতিহাসে ধ্বংসের প্রতিমূর্তি হিসেবে মানুষের মনে একটা স্থায়ী স্থান স্থাপন করে গেছেন । সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিটলার ছিলেন বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের স্রষ্টা।
তিনি ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যালেন্সর পদে আসীন ছিলেন এবং প্রায় একই সময় অর্থাৎ ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির ফিউরার হয়ে দেশের শাসনকার্য সামলেছিলেন । তাঁর নৃশংসতা এবং বর্বরতার জন্যই তিনি বিশ্ববাসীর কাছে সর্বদা আলোচিত। বহু ক্ষেত্রবিশেষে হিটলারের উক্তিসমূহ বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।সেই বহু সমালোচিত বাণী নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি।
হিটলারের প্রত্যেকটি বাণীর মধ্য থেকে এটা সহজেই বোঝা যায় জীবনকে তিনি ভিন্ন দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। নিচে উল্লেখ করা হলো অ্যাডলফ হিটলারের সেই বহু সমালোচিত উক্তিগুলি
হিটলারের অমর বাণী , Sayings of Adolf Hitler in Bangla
ভালোবাসা না করে যুদ্ধে যাও,হয় তুমি জয়ী হবে না হলে মরবে। কিন্তু ভালোবাসায় পরাজিত হলে না পারবে তুমি বেঁচে থাকতে না পারবে মরে যেতে।
সন্ত্রাস, নাশকতা, হত্যা এবং বিস্ময়ের মধ্য দিয়ে শত্রুর মনোবল ভেঙে দাও, এটাই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
একজন খ্রিস্টান হিসেবে প্রতারিত হওয়া আমার কর্তব্য নয়, কর্তব্য হলো সত্য এবং ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ করা।”
জার্মানি হবে পৃথিবীর সর্বশক্তিমান নয়তো কিছুই নয়।
আমি চাইলে সব ইহুদীদের হত্যা করতে পারতাম। কিন্তু কিছু ইহুদী বাঁচিয়ে রেখেছি,,এই জন্যে যে, যাতে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারে, আমি কেন ইহুদী হত্যায় মেতেছিলাম।
শক্তি প্রতিরোধে নয়, আক্রমণেই প্রকাশিত হয়।
অ্যাডলফ হিটলারের উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি শেখ হাসিনার বিখ্যাত উক্তি সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
হিটলারের নীতি , Principles of Hitler explained in Bengali
যারা বাঁচতে চায়, তারা লড়াই করে বাঁচুক। আর যারা লড়তে চায় না, তাদের বাঁচার কোন অধিকার নেই।
যদি সূর্যের মত আলো ছড়াতে চাও আগে এর মত জ্বলতে হবে।
মিথ্যা যত বড়, লোকের তা বিশ্বাস করার সম্ভাবনা তত বেশি।
যে যুবক ভবিষ্যৎকে জয় করে, সে হয় একা।
যে ব্যাক্তি আকাশকে সবুজ দেখে এবং জমিনকে আঁকে নীল রঙে তাকে নপংসুক করে দেয়া কর্তব্য।
কে বলেছে আমি ঈশ্বরের দ্বারা সুরক্ষিত নই।
ঈশ্বর এবং শয়তান ;ওই দুই নিয়েই আমাদের পৃথিবী গঠিত
জীবন কখনো দুর্বলতা ক্ষমা করে না
আমি আমার পিতাকে শ্রদ্ধা করতাম কিন্তু মাকে ভালোবাসতাম
যার কোন সমস্যা নেই, তাকে কখনো বিশ্বাস করবে না।
জীবন আয়নার মত। তুমি ভেংচি কাটলে এটাও তোমাকে ভেঙ্গাবে, তুমি হাসলে এটা তোমাকে অভিবাদন জানাবে।
অ্যাডলফ হিটলারের উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি ফিদেল কাস্ত্রোর উক্তি ও বাণী সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
জীবন নিয়ে আডলফ হিটলারের উক্তি, Hitler quotes about life
যে কোন ঝামেলা ছাড়াই জেতে সে বিজেতা, কিন্তু যে শত ঝামেলা সামলে জেতে সে ইতিহাস রচয়িতা।একজন বড় মিথ্যাবাদী, একজন বড় জাদুকরও।
বিজয়ীকে কেউ কখনো জিজ্ঞাসা করেনা সে সত্য বলছে কিনা।
যদি বড় কোন মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাও, সহজ ভাবে এটাকে বলো, বারবার বলতে থাকো, একসময় দেখবে সবাই এটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
অপছন্দের চেয়ে ঘৃণার স্থায়িত্ব বেশি।”
নিজেকে কখনো অন্য কারও সাথে তুলনা করবেনা; যদি সেটা করে থাক তাহলে তুমি নিজেকে অপমান করছ
মানুষ হয়ত সবসময় তোমার মুখের কথায় বিশ্বাস করবে না, কিন্তু তোমার কাজে তারা সবসময়ই বিশ্বাস করবে।
আমি শুধুমাত্র এমন কিছুর জন্য লড়াই করতে পারি যা আমি ভালোবাসি, শুধুমাত্র তাকেই ভালোবাসি যাকে আমি সম্মান করি, আর আমি তাকেই সম্মান করি যাকে আমি অন্তত কিছুটা হলেও জানি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হাজার বার ভাবুন কিন্তু – সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হাজার কষ্ট পেলেও পিছপা হবেন না!!
প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলা প্রতিভাবান মানুষটি ইতিহাসকে তার নিজের ইচ্ছায় নত করার ক্ষমতা রাখে।
সংগ্রামই সব কিছুর জনক। এটি মানবতার নীতির দ্বারা নয় যে মানুষ বেঁচে থাকে বা প্রাণীজগতের ঊর্ধ্বে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়, এটি শুধুমাত্র সবচেয়ে নিষ্ঠুর সংগ্রামের মাধ্যমেই সম্ভব ।
যে বাঁচবে তাকে লড়াই করতে হবে। যে এই পৃথিবীতে লড়াই করতে চায় না, তার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই কারণ স্থায়ী সংগ্রামই হল জীবনের নিয়ম।
এই পৃথিবী কাপুরুষ মানুষদের জন্য তৈরি হয়নি
যখন তুমি মারা যাবে তখন তোমার ব্যাংকে সেই পরিমাণ টাকা থাকবে সেটা হলো ওই টাকা যেটা তুমি তোমার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করে বেশি আয় করেছে ।
অ্যাডলফ হিটলারের উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি আলবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি ও বাণী সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
জীবন নিয়ে আডলফ হিটলারের উক্তি , Speeches of Hitler
কূটনীতির যেখানে অবসান ঘটে সেখানেই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়
যে মানুষটির ইতিহাসের কোন জ্ঞান নেই, সে এমন একপ্রকার মানুষ যার কোন কান বা চোখ নেই
শুধুমাত্র ইহুদিরা জানত যে প্রচারের একটি সক্ষম এবং অবিরাম ব্যবহারের মাধ্যমে স্বর্গ নিজেই মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যেতে পারে। ইহুদীরা এই ব্যাপারে অবগত ছিল এবং তারা সেই অনুযায়ী কাজ করেছিল। কিন্তু জার্মান ও তার সরকারের এ ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহও ছিল না আর যুদ্ধের সময় সেই অজ্ঞতার জন্য তাদের সবচেয়ে ভারী জরিমানা দিতে হয়েছিল।
পড়া নিজেই শেষ নয়, বরং শেষের উপায়
শক্তিশালীকে অবশ্যই আধিপত্য বিস্তর করতে হবে এবং দুর্বলের সাথে সঙ্গম করলে হবে না, যা তার নিজস্ব উচ্চ প্রকৃতির আত্মত্যাগকে নির্দেশ করবে। শুধুমাত্র জন্মগত দুর্বল ব্যক্তিই এই নীতিটিকে নিষ্ঠুর হিসাবে দেখতে পারে, এবং যদি সে তা করে তবে তা কেবলমাত্র সে দুর্বল প্রকৃতির এবং সংকীর্ণ মনের
আমি অনেকের জন্য আবেগ ব্যবহার করি এবং অল্পের জন্য কারণ সঞ্চয় করে রাখি।
যিনি একা যুব সম্প্রদায়ের মালিকানা অর্জন করতে পারেন তিনি প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যত জয় করেছেন।
একটি জাতিকে জয় করতে হলে প্রথমে তার নাগরিকদের নিরস্ত্র করুন।
শব্দ হল অনাবিষ্কৃত অঞ্চলগুলিতে সেতু তৈরি করার শক্তিশালী মাধ্যম ।
যদি অস্ত্রের অপ্রতুলতার কারণে স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাধা আসে তবে তার ক্ষতিপূরণ আমরা ইচ্ছাশক্তি দিয়ে মিটিয়ে দেব
পড়া এবং অধ্যয়নের শিল্প হল অপরিহার্য বিষয়গুলি মনে রাখা এবং যা অপরিহার্য নয় তা ভুলে যাওয়া।
একমাত্র প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যা একজন গ্রহণ করতে পারে তা হল অনিয়মিতভাবে জীবনযাপন করা।
সবকিছুর মতো, প্রকৃতি হল সেরা প্রশিক্ষক।
নিরঙ্কুশ রাষ্ট্রের বড় শক্তি হল যে এটিকে যারা ভয় পায় তাদের অনুকরণ করতে বাধ্য করে
মানবতাবাদ হল মূর্খতা ও কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ
প্রতিভাধর নেতার অবশ্যই বিভিন্ন প্রতিপক্ষকে এমনভাবে দেখানোর ক্ষমতা থাকতে হবে যেন তারা একটি বিভাগের অন্তর্গত।একটি সুস্থ ও উদ্যমী মন কেবল একটি সুস্থ ও উদ্যমী শরীরেই পাওয়া যায়।
জ্ঞানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেয়ে বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা সর্বদা কঠিন।
আমাদের জীবনের পথে বাধা বিপত্তিগুলি স্থাপন করা হয়, এতে আটকা পড়ার জন্য নয় বরং অতিক্রম করার জন্য।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে অ্যাডলফ হিটলার ছিলেন এক ঐতিহাসিক জীবনের অধিকারী যিনি জীবনকে দেখেছেন একদম ভিন্ন আঙ্গিকে।
হিটলার নিজে তাঁর প্রাথমিক জীবনসংগ্রাম থেকে পর্যাপ্ত শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন নিজের জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে ও। আডলফ হিটলারের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আরও জানার আগ্রহ থাকলে পাঠককে অনুরোধ করব অ্যাডলফ হিটলার রচিত ডায়রী মেইন ক্যাম্প পড়ার জন্য ।
পরিশেষে, Conclusion
উপরে উল্লেখিত জীবন, সংগ্রাম, ভালোবাসা,বিশ্বাস নিয়ে হিটলারের ভিন্ন আঙ্গিকে করা বাণীসমূহ আশা করি আপনাদের পড়ে ভালো লেগেছে। এই উক্তিগুলো পাঠ করলে পাঠকদের স্বৈরাচারী শাসক হিটলারের জীবনদর্শন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা হবে।
আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি আপনাদের পছন্দ হলে তা অবশ্যই নিজের বন্ধু ও পরিজনদের সাথে শেয়ার করে নেবেন। এ রকম আরও কিছু ভিন্ন স্বাদের উক্তির ডালি নিয়ে আসব আমরা আগামী প্রতিবেদনগুলিতে । তাই চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে!
Oindrila Banerjee, a master's graduate in Modern History from Calcutta University, embodies a diverse range of passions. Her heart resonates with the rhythm of creative expression, finding solace in crafting poetic verses and singing melodies. Beyond her academic pursuits, Oindrila has contributed to the educational realm, serving as a teachers' coordinator in a kindergarten English medium school. Her commitment to nurturing young minds reflects her belief in the transformative power of education. Oindrila's guiding principle in life, encapsulated in the motto, "There are two ways of spreading light: to be the candle or the mirror that reflects it,"