মাইকেল মদুসূধন দত্ত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি । অন্যদিকে তিনি বাংলা কাব্য সাহিত্যে আধুনিকতার জনক হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন প্রথম সার্থক নাট্যকার ও প্রথম পত্রকাব্যকার। বাংলার প্রথম প্রহসন তিনিই লিখেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
তাছাড়া তিনি মহাকাব্য রচনায় বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তক ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা । আমাদের আজকের এই পোস্টটিতে আমরা মাইকেল মধুসূদন দত্তের উক্তি, বাণী, পংক্তি, কবিতা ও ছন্দ ইত্যাদি তুলে ধরব।
বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ সামাজিক মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মনোভাব তুলে ধরার চেষ্টা করে, তাই আপনাদের মধ্যে যারা এই বিষয় নিয়ে স্ট্যাটাস, ক্যাপশন, উক্তি, ছন্দ ইত্যাদি খোঁজ করে থাকেন তারা এই পোস্টে থাকা লেখাগুলো খুব সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। আশা করছি এই উক্তিগুলো পাঠকদের পছন্দ মতন হবে এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করার যোগ্য হবে।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেরা উক্তি, Michael Madhusudan Dutt best sayings
“জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন নদে? ”
“পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালেমাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।”
“নিশার স্বপন-সুখে সুখী যে কী সুখ তার, জাগে সে কাঁদিতে।”
“হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন।”
“বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ – দলে,কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?”
“দিন দিন আয়ুহীন, হীনবল দিন দিন।”
“পতঙ্গ যে রঙ্গে ধায়,ধাইলি,অবোধ,হায়না দেখলি না শুনিলি,এবে রে পরাণ কাঁদেবাকি কি রাখিলি তুই বৃথা অর্থ-অন্বেষণে,সে সাধ সাধিতে?”
“গতি যার নীচ সহ নীচ সে দুর্মতি।”
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
যথা ধীরে স্বপ্ন-দেবী রঙ্গে সঙ্গে করিমায়া-নারী—রত্নোত্তমা রূপের সাগরে,পশিলা নিশায় হাসি মন্দিরে সুন্দরীসত্যভামা, সাথে ভদ্রা, ফুল-মালা করে।
কি সুরাজ্যে, প্রাণ, তব রাজ-সিংহাসন !বাহু-রূপে দুই রথী, দুর্জয় সমরে,বিধির বিধানে পুরী তব রক্ষা করে ;—পঞ্চ অনুচর তোমা সেবে অনুক্ষণ ।সুহাসে ঘ্ৰাণেরে গন্ধ দেয় ফুলবন ;যতনে শ্রবণ আনে সুমধুর স্বরে ;সুন্দর যা কিছু আছে, দেখায় দর্শনভূতলে, সুনীল নভে, সৰ্ব্ব চরাচরে !
মাইকেল মধুসূদন দত্তের উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি সক্রেটিস এর বিখ্যাত বাণী সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত লাইন, Famous lines of Michael Madhusudan Dutt
হেরি দূরে উর্দ্ধশিরঃ তোমার গগনে,অচল, চিত্রিত পটে জীমূত যেমতি।ব্যোমকেশ তুমি কি হে, (এই ভাবি মনে)মজি তপে, ধরেছ ও পাষাণ-মূরতি?
মেনকা অপ্সরারূপী, ব্যাসের ভারতীপ্রসবি, ত্যজিলা ব্যস্তে, ভারত-কাননে,শকুন্তলা সুন্দরীরে, তুমি, মহামতি,কণ্বরূপে পেয়ে তারে পালিলা যতনে,কালিদাস ! ধন্য কবি, কবি-কুল-পতি !তব কাব্যাশ্রমে হেরি এ নারী-রতনেকে না ভাল বাসে তারে, দুষ্মন্ত যেমতিপ্রেমে অন্ধ?কে না পড়ে মদন-বন্ধনে?
কনক উদয়াচলে তুমি দেখা দিলে, হে সুর-সুন্দরি!কুমুদ-মুদয়ে আঁখি,কিন্তু সুখে গায় পাখী,গুঞ্জরি নিকুঞ্জে ভ্ৰমে ভ্রমর ভ্রমরী;রসরোজিনী ধনী,তুমি হে তার স্বজনী,নিত্য তার প্রাণনাথে আন সাথে করি!
হে ধৰ্ম্ম, কি লোভে তবে তোমারে বিস্মরি,চলে পাপ-পথে নর, ভুলি পাপ-ছলে ?সংসার-সাগর-মাঝে তব স্বর্ণতরিতেয়াগি, কি লোভে ডুবে বাতময় জলে ?দু দিন বাঁচিতে চাহে, চির দিন মরি ?
এখনও আছে লোক দেশ দেশান্তরেদেব ভাবি পূজে তোমা, রবি দিনমণি,দেখি তোমা দিবামুখে উদয়-শিখরে,লুটায়ে ধরণীতলে, করে স্তুতি-ধ্বনি ;আশ্চর্যের কথা, সূৰ্য্য, এ না মনে গণি।
হিমন্তের আগমনে সকলে কম্পিত,রামাগণ ভাবে মনে হইয়া দুঃখিত।মনাগুনে ভাবে মনে হইয়া বিকার,নিবিল প্রেমের অগ্নি নাহি জ্বলে আর।ফুরায়েছে সব আশা মদন রাজারআসিবে বসন্ত আশা—এই আশা সার।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি মার্টিন লুথার কিং এর উক্তি ও বাণী সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেরা কবিতা, Best poems of Michael Madhusudan Dutt
এ হৃদয়, দেখ, এবে ওই সরোবরে,—চন্দ্রিমার রূপে এতে তোমার মূরতি !কাল বলি অবহেলা, প্রেয়সি, যে করেনিশায়, আমার মতে সে বড় দুৰ্ম্মতি।হেন সুবাসিত শ্বাস, হাস স্নিগ্ধ করেযার, সে কি কভু মন্দ, ওলো রসবতি?
কার সাথে তুলনিবে,লো সুর-সুন্দরি,ও রূপের ছটা কবি এ ভব-মণ্ডলে?আছে কি লো হেন খনি,যার গর্ভে ফলেরতন তোমার মত,কহ,সহচরিগোধূলির?কি ফণিনী,যার সু-কবরীসাজায় সে তোমা সম মণির উজ্জ্বলে?—ক্ষণমাত্র দেখি তোমা নক্ষত্র-মণ্ডলেকি হেতু?ভাল কি তোমা বাসে না শর্ব্বরী?হেরি অপরূপ রূপ বুঝি ক্ষুণ্ণ মনেমানিনী রজনী রাণী,তেঁই অনাদরেনা দেয় শোভিতে তোমা সখীদল-সনে,যবে কেলি করে তারা সুহাস-অম্বরে?কিন্তু কি অভাব তব,ওলো বরাঙ্গনে,—ক্ষণমাত্র দেখী মুখ,চির আঁখি স্মরে!
বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে। করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে, দীন যে, দীনের বন্ধু !- উজ্জল জগতে হেমাদ্রির হেম-কান্তি অম্লান কিরণে। কিন্তু ভাগ্য-বলে পেয়ে সে মহা পর্বতে, যে জন আশ্রয় লয় সুবর্ণ চরণে, সেই জানে কত গুণ ধরে কত মতে গিরীশ। কি সেবা তার সে সুখ সদনে ! দানে বারি নদীরূপ বিমলা কিঙ্করী। যোগায় অমৃত ফল পরম আদরে দীর্ঘ-শিরঃ তরু-দল, দাসরূপ ধরি। পরিমলে ফুল-কুল দশ দিশ ভরে, দিবসে শীতল শ্বাসী ছায়া, বনেশ্বরী, নিশায় সুশান্ত নিদ্রা, ক্লান্তি দূর করে।
বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তর অনবদ্য অবদানে বাংলা ভাষা ব্যবহারে অনেক রূপ এবং সমৃদ্ধি লাভ করে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাণীতে আমরা সেই ছোঁয়া পাই। তাঁর লিখিত ভাষা বর্তমানে দূর্বোধ্য হলেও তাঁর অন্তর্নিহিত ভাব সমৃদ্ধ।
আজকের এই পোস্ট দ্বারা মাইকেল মধুসূদন দত্তের উক্তি, বাণী, পংক্তি, কবিতা ও ছন্দ ইত্যাদি আপনাদের কাছে তুলে ধরার। আশা করি আজকের এই পোস্ট ভালো লেগেছে। এই পোস্টটি যদি আপনাদের মনোগ্রাহী হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার আত্মীয়পরিজন ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারেন। এরূপ আরো পোস্ট পাওয়ার জন্য নজর রাখুন আমাদের এই ওয়েবসাইটে।