আমাদের আজকের এই পোস্টটিতে আমরা “যৌবন” নিয়ে উক্তি তুলে ধরব। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ সামাজিক মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মনোভাব তুলে ধরার চেষ্টা করে, তাই আপনাদের মধ্যে যারা এই বিষয় নিয়ে স্ট্যাটাস, ক্যাপশন, উক্তি, ছন্দ ইত্যাদি খোঁজ করে থাকেন তারা এই পোস্টে থাকা লেখাগুলো খুব সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। আশা করছি এই লেখাগুলো পাঠকদের পছন্দ মতন হবে এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করার যোগ্য হবে।
যৌবন নিয়ে সেরা উক্তি, Best quotes about Youth in Bangla
বর্তমান সময়ের তরুন তরুণীদের একটা কথা জেনে রাখা আবশ্যক যে যৌবনকাল হল তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। নিজের ভবিষ্যৎকে সব দিক দিয়ে মজবুত করে গড়ে তোলার সঠিক সময় হল যৌবন, কারণ এই যৌবনকালই নির্ধারণ করে যে ভবিষ্যতে তুমি কতটা দৃঢ়, মজবুত এবং সুখী হতে পারবে।
সৌন্দর্য, যৌবন এবং সৌভাগ্য কখনও একসাথে বসে সভা করে না, তাই সুশৃঙ্খলভাবে এরা কোনোদিনও মানুষের জীবনে আসতে পারে না।
যৌবন কোনো কিছুর প্রতিফলনের সময় নয়, বরং এটি হল উদাসীনতা উপভোগ করার সময়।
আমার যৌবনের প্রারম্ভিক অভিব্যক্তি শিল্পের সমস্ত দিক দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল।
চরিত্র যৌবনে সৌন্দর্য এনে দেয়।
যৌবনটা যেন কেটে যায় এক স্বপ্নের মতো, কখন শুরু আর কখন শেষ বুঝতে পারা যায় না।
“যৌবনের আমি করিনু ঘোষণা, প্রেম বলে কিছু নাই। চেতনা আমার জড়ে মিশাইলে সব সমাধান পাই। “
তোমার শরীর ও মনে যে হরমোন জনিত ঢেউ জেগেছে, তার স্বাদ তুমি কি বয়সটা পেরিয়ে গেলেও নিতে পারবে। কিন্তু এই যৌবনের সময় টা তো আর ফিরে আসবে না। তাই এই সময়টাকে তুমি নিজের ভবিষ্যতের পিলার তৈরির কাজে লাগাও, এক কথায় এখনের সময় টাকে নষ্ট করো না।
যৌবনে নানান রকমের বাধা আসবে পথে। যেমন রাস্তাতে বাম্পার থাকে, সেই রকম এই ঢেউ গুলো তোমার জীবনের বাম্পার। এদেরকে সাবধানে অতিক্রম করবে।
যৌবন বয়সে তোমার মধ্যে থাকে এক অফুরন্ত শক্তি। এই শক্তি কে কখনো নেতিবাচক কাজের জন্য ব্যবহার করতে যেও না, বরং এই শক্তি কে জ্ঞান আহরনের কাজে লাগাও, সমাজের কল্যাণের কাজে লাগাও।
তোমার শক্তিকে কোন দিকে তুমি পরিচালিত করবে সেই ক্ষমতা তোমার হাতেই আছে। তাই প্রত্যেকটা কাজই ভেবে চিন্তে করো, বিশেষ করে যৌবনের সময়টাকে একদম অপচয় করবে না ।
তোমার বাবা মা অভিজ্ঞতায় অবশ্যই তোমার থেকে বড়, আর বিদ্যালয় শিক্ষা থেকেও অভিজ্ঞতা আমাদের সবচেয়ে বেশী শিক্ষিত করে তোলে। তাই যৌবন বয়সে যে বাবা মায়ের কথা অবহেলা করার সম্ভাবনা বেশি থাকে, সেই ভাবধারা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করো।
জেনে রাখো- আমাদের সমাজে মেয়েরাই ধর্ষিতা হয়, ছেলেরা না। এখনো আমাদের সমাজ পুরুষশাসিত হয়েই থেকে গেছে, যৌবন বয়সে ছেলেরা রাস্তায় যেকোনো একা মেয়ের দিকে আকর্ষিত হয়ে অনেক সময় খারাপ কাজ করে বসে, কিন্তু তাও মেয়েদের কেই চরিত্রহীন বলা হয়, ছেলেদের কে নয়।
প্রারম্ভিক যৌবন যেন এক বিস্ময়কর সময়। কখন কি অভিজ্ঞতা হয় কেউ বলতে পারে না, এই বয়সে সকলেই কম বেশি অশান্ত থাকে।
যৌবনে দিনগুলি ছোট মনে হয় আর বছরটাকে মনে হয় বেশ বড়, বার্ধক্যে বছরগুলি ছোট মনে হয় আর দিনগুলিকে মনে হয় দীর্ঘ।
ওঠা-নামা জোয়ার-ভাটা কালের নদীর কোলে,চির দুরন্ত যৌবন বেগ তাহারই বক্ষে দোলে।রুখি যুগে যুগে তরুণেরা চলেনিরুদ্ধ ব্যাথা নয়নের জলে। নতুন গড়িছে নতুন পৃথিবী গাহি নতুনের গান।
যৌবনে অতীত গড়েছে তারাই, তারা গড়িছে বর্তমান।
যৌবন হল নিজের মনের অবস্থা বোঝার সঠিক সময়।
যৌবনের শেষ শুভ্র শরৎকালের ন্যায়, গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ়। সুন্দর বয়স তো তখন আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়।
নষ্ট যৌবনের কথা বলে কোন লাভ নেই।
যৌবনের বিশুদ্ধতাই ঐশ্বরিক বাতাসের সূচনা করবে।
যৌবনের যে মুহূর্তে তুমি বিপদে পড়বে, সেই মুহূর্তেই তুমি ঈশ্বরকে স্মরণ করো। মন থেকে গভীরভাবে তাকে ডাকো আর বলো- হে ঈশ্বর, আমাকে সঠিক পথে নিয়ে চলো, হয় বিপদ থেকে রক্ষা করো নয় বিপদ কে মোকাবিলা করার সাহস দিও।
মনে রেখো দুষ্ট ছেলেদের শারীরিক শক্তির চেয়ে তোমার মানসিক শক্তির জোর অনেক গুনে বেশী। মন শরীর কে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু সেইভাবে শরীর পারে না মন কে কন্ট্রোল করতে। শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি হয় মনের জোরে।
যৌবনের ইমোশনগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারো, তবে তুমি সঠিক পথে পরিচালিত হবে। ইমোশন এর ডাকে সাড়া না দিয়ে জীবনে লক্ষ্য স্থির করো, কারণ ইমোশন তোমাকে দিয়ে খারাপ কাজও করিয়ে নিতে পারে। এর চেয়ে ভালো হবে যে জীবনের লক্ষ্য পূরণে অনবরত অবিচল থেকে এগিয়ে যেও।
যৌবনকালের বয়স হল দুঃসাহসের বয়স। এই বয়স অসম্ভব কে সম্ভব করে তোলার মত বয়স। কিন্তু তুমি চেষ্টা করো যেন এই অসীম শক্তিকে তুমি সমাজের কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারো। চেষ্টা করো যেন তোমার এই শক্তি কোন ছেলে বা মেয়ের চোখের জলের কারণ না হয়।
যৌবন বয়সের সময়কালের অসীম শক্তিই পারবে দেশ কে বেকারত্ত্বের হাত থেকে মুক্তি দিতে, পারবে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির আবিষ্কার করতে, পারবে জাতিধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এক চোখে দেখতে।
যৌবনের বয়সই পারবে ইমোশন এর শক্তি কে অন্য শক্তি তে রূপান্তরিত করতে। এই বয়স তো বেশ জানে বিজ্ঞানের অস্ত্র কি, জানে শক্তির রহস্য।
খেয়াল রেখো যৌবনের পিচ্ছিল পথে স্লিপ কেটে যেন পড়ে না যাও, তাই কোনো না কোনো অবলম্বন ব্যবহার করো, আর এই অবলম্বন হল গুরুজনদের বাণী, তথা বড়দের কথা শোনা এবং মেনে চলা। তারা যেমনই হোক না কেন এই কথা অস্বীকার করা যায় না যে তারা অভিজ্ঞতায় বড়।
কোনো সঠিক অবলম্বন ছাড়া যৌবন বয়সে এগিয়ে যেও না, হয়তো তুমি ভুল পথে চলে যেতে পারো, কিন্তু নিজেও বুঝতে পারবে না যে তুমি সঠিক না কি ভুল পথে যাচ্ছ।
একবার যদি যৌবনের শ্যাওলা তে পড়ে যাও, গড়িয়ে যাবে শ্যাওলার হাত ধরে। উঠে আসা খুব মুশকিল। যতক্ষণ না অবধি কেউ সেই শ্যাওলার ওপর থেকে ব্লিচিং পাউডার ছড়াচ্ছে, ততক্ষন অবধি উঠে জীবনে চলা অসম্ভব।
যৌবন বয়সকালে তরুন তরুণীদের মিথ্যে কথা বলার প্রবনতা বেড়ে যায়। আত্মরক্ষা করার জন্য, দুষ্টদের কাছে মিথ্যে বল, কিন্তু ভুল করেও বাবা মা এর কাছে মিথ্যে বল না যেন।
যৌবন বয়সে আমরা একটা বিষয় বুঝতে পারি না যে, একটা মিথ্যে কথা বলতে গিয়ে, হাজার টা মিথ্যের সম্মুখীন হতে হবে, আর যে বাবা মা তোমার জন্ম দিয়েছে, সেই বাবা মা এর কাছে তো অবশ্যই ধরা পড়বে একদিন।
মানব জন্মের নামে হবে কলঙ্ক হবেএরকম দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই,উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা হবোআমার যৌবন দিয়ে এমন দুর্দিনে আজশুধু যদি নারীকে সাজাই।
আমরা নূতন যৌবনেরই দূতআমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।আমরা বেড়া ভাঙি,আমরা অশোকবনের রাঙা নেশায় রাঙি,ঝঞ্ঝার বন্ধন ছিন্ন করে দিই– আমরা বিদ্যুৎ॥আমরা করি ভুল–অগাধ জলে ঝাঁপ দিয়ে যুঝিয়ে পাই কূল।যেখানে ডাক পড়ে জীবন-মরণ-ঝড়ে আমরা প্রস্তুত॥
আমরা চেষ্টা করেছি আজকের এই পোস্ট দ্বারা “যৌবন” নিয়ে কিছু উক্তি আপনাদের কাছে তুলে ধরার। আশা করি আজকের এই পোস্ট ভালো লেগেছে। এই পোস্টটি যদি আপনাদের মনোগ্রাহী হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার আত্মীয় পরিজন ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারেন। এরূপ আরো পোস্ট পাওয়ার জন্য নজর রাখুন আমাদের এই ওয়েবসাইটে।