নৃত্যগুরু উদয় শঙ্করের জীবনকাহিনী – Uday Shankar Biography in Bengali



প্রাচ্য নৃত্যকলার আঙিনায় উদয় শংকর স্বয়ং একাই একটি প্রতিষ্ঠানস্বরূপ ।সমগ্র  বিশ্বকে এই উপমহাদেশীয় শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করানো, মূলত নৃত্যকলার প্রতি শ্রদ্ধাবনত করার কর্মযজ্ঞ টি তাঁর বৈচিত্র্যময় জীবনের শ্রেষ্ঠতম অবদান বললেও অত্যুক্তি হবে না।

pandit uday shankar life story in bengali

ভারতবর্ষের আধুনিক নৃত্যের একজন অগ্রগামী , উদয় শঙ্কর ছিলেন একজন প্রতিথযশা নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিকল্পক এবং অভিনেতা।ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও উপজাতীয় নৃত্যের উপাদানগুলির সঠিক সমন্বয় করেছিলেন তিনি যা পরবর্তী কালে ভারত,ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।  

উদয় শঙ্করের জীবনী

প্রাথমিক জীবন:

৮ ই ডিসেম্বর ১৯০০ সালে রাজস্থানের অন্তর্গত উদয়পুরে এক বাঙালি পরিবারে জন্ম উদয় শঙ্করের, যাঁর পুরো নাম উদয় শঙ্কর চৌধুরী। উদয় শঙ্করের বাবা, বাংলাদেশের যশোর জেলার অধিবাসী পন্ডিত শ্যাম শঙ্কর যখন ঝালাওয়ারের মহারাজার ব্যক্তিগত সচিবের পদে কর্মরত ছিলেন  তখন উদয় শঙ্করের জন্ম হয়।

uday shankar's personal life bangla

শৈশবকালের অধিকাংশ সময়েই  তিনি তাঁর মা, হেমাঙ্গিনী দেবী এবং ভাইবোনদের সাথে মাতৃগৃহ  নুসরাতপুরে অতিবাহিত করেছিলেন। পিতার বদলির কাজ হওয়ার কারণে উদয় শঙ্করকে  নসরতপুর, গাজীপুর, বারাণসী ও ঝালওয়ার মত বিভিন্ন স্কুল পরিবর্তন করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল।বাল্যবয়সে গাজীপুরে থাকাকালীন এবং অধ্যয়ন করাকালীন  সংগীত ও ফটোগ্রাফির মত কিছু গুরুত্বপূর্ণ  শিল্পগুলির সাথে তাঁর সম্পর্ক স্থাপিত হয়। 

পিতা, পন্ডিত শ্যাম শঙ্করের  কাছে নৃত্যকলা ছিল একাধারে শিল্প এবং  উপাসনা। তাই অতি সহজাতভাবেই  উদয় শঙ্কর চিত্র ও নৃত্যকলার প্রতি অতন্ত্য অণুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। ১৯১৮ সালে মুম্বাইয়ের জে জে স্কুল অব আর্টস এবং পরবর্তীকালে গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণের জন্য উদয় শঙ্করকে পাঠনো হয়।

পরবর্তীকালে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য লন্ডনের রয়েল কলেজ অব আর্টস্ এ দাখিল হন যেখানে   তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের চিত্রকলা ও নৃত্যকলা সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।তিনিই প্রথম ভারতীয় ছাত্র যিনি সেখান থেকে ‘সেন্সর’ ও ‘জর্জক্লাঝেন’ নামক দুটি পদক লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন।রয়েল কলেজ অব আর্টস্ এ বৃত্তি প্রাপ্ত করেছিলে তিনি ।

কর্মজীবন ও নৃত্যচর্চা :

 ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের কোনও প্রথাগত প্রশিক্ষণ না থাকলেও উদয় শঙ্কর  শৈশব থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় এবং লোক নৃত্যের শৈলীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। ইউরোপে থাকাকালীন তিনি ব্যালেতে এতটাই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি উভয় শৈলীর উপাদানগুলিকে সমন্বিত  করে নৃত্যের একটি নতুন শৈলী আবিষ্কার করার চিন্তাভাবনা করেছিলেন , যাকে ‘হাই-ডান্স ‘বলা হয়ে থাকে। 

উদয় শঙ্কর এর জীবনী

ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের স্বরূপ এবং প্রতীকগুলিতে নৃত্যে রূপ প্রদান করেছিলেন এই গুণী শিল্পী।  তিনি ব্রিটিশ যাদুঘরে রাজপুত চিত্রকর্ম ও মোগল চিত্রকলার আঙ্গিক বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।  ব্রিটেনে থাকাকালীন উদয় শঙ্কর  নৃত্য পরিবেশনকারী বেশ কিছু শিল্পীর সংস্পর্শে আসেন ও পরবর্তীকালে  ফরাসী সরকারের উপবৃত্তি প্রিক্স ডি রোমে আর্ট বিষয়ে উচ্চ স্তরের গবেষণা হেতু রোমে পাড়ি দিয়েছিলেন।

পড়ে নিন সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জীবনী

নৃত্যশিল্পী হিসেবে উদয় শঙ্করের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল লন্ডনে থাকাকালীন ভারতীয় নৃত্য রচনার মাধ্যমে এবং  নৃত্যগুলি সেখানকার প্রদর্শনীতে মঞ্চস্থ  হয় এবং  ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল। লন্ডনের আইভি হাউসে নৃত্য প্রদর্শনের সময় প্রখ্যাত রাশিয়ান ব্যালেরিনা আনাপাভলোভা তাঁর মনোমুগ্ধকর নৃত্য দেখে মোহিত হন এবং পরবর্তীকালে তাঁর সাথে একটি বৈঠক  সংঘটিত হয়েছিল যা  উদয় শংকরের জীবনে সাফল্য  ও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল।আনাপাভলোভা প্রাচ্য নৃত্যকলার প্রতি আগ্রহী হয়ে প্রাচ্য ওরিয়েন্টাল নৃত্য প্রশিক্ষণ দেবার জন্যে উদয় শঙ্করকে তাঁর দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ।

রাধাকৃষ্ণ ও হিন্দু বিবাহ

আনাপাভলোভার অনুরোধে ১৯২৩ সালে উদয় শঙ্কর ‘রাধাকৃষ্ণ’ ও ‘হিন্দু বিবাহ’ নামে মনোজ্ঞ দুটি ভারতীয় নৃত্য রচনা করেছিলে যা সর্বপ্রথম  মঞ্চস্থ হয়েছিল লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেনের রয়েল অপেরা হাউসে।  ‘রাধাকৃষ্ণ’ নৃত্যে  উদয় শঙ্কর নিজেই  রাধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পাশ্চাত্য দর্শককুলের হৃদয় জয় করেছিলেন।

স্বতন্ত্র দল প্রতিষ্ঠা

পাভলোভার সাথে  দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নৃত্য প্রদর্শনের পর উদয় শঙ্কর   স্বতন্ত্রভাবে দল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রচন্ড প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকে ও তাঁর মনোবল ভেঙে যায়নি॥  আনাপাভলোভার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তাঁর মনে সঞ্চার  ঘটেছিল এক নতুন উদ্যমের। উদয় শঙ্করের নৃত্য সঙ্গিনী ছিলেন  সিমকী এবং  তাঁর  আর্থিক সাহায্য দাতা ছিলেন বিত্তশালিনী চিত্রশিল্পী শ্রীমতি অ্যালিস বোনার।

উদয় শঙ্কর

ভারতে ফেরা

ভারতবর্ষে ফিরে এসে  তিনি কেরালার গুরাভাযুরের একটি মন্দিরে নৃত্য অনুষ্ঠানে ‘কথাকলি’ নৃত্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়ে সেই নৃত্য   শৈলীকে শেখা এবং গভীরভাবে জানার জন্যে কথাকলি নৃত্য গুরু শঙ্করণ নামবুদ্রীকে শিক্ষাগুরু হিসেবে তিনি তাঁর জীবনে পান। তিনি সেই সময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে   শাস্ত্রীয় ও লোক নৃত্য সংগ্রহ ও করেছিলেন।

সম্রাট অশোকের কাহিনী – ইতিহাস

প্যারিসের পথে

অ্যালিস বোনারের সহযোগিতায়১৯৩০ সালের অক্টোবর মাসে উদয় শঙ্কর  তাঁর সাংস্কৃতিক দল নিয়ে প্যারিসের পথে যাত্রা করেন এবং এভাবেই তিনি প্রথমবারের জন্য  ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলকে  বিদেশ যাত্রার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন।

সেখানে  The Compagnie Uday Shankar de Dance Musique Hindous নামে একটি নৃত্য ও সঙ্গীত কোম্পানি স্থাপন করেন। এই দলের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত  ছিলেন তিমির বরণ। দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি যাঁরা ছিলেন তাঁরা হলেন উদয়শঙ্করের ছোট ভাই  প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও তাঁদের সহযোগিনী মাতা হেমাঙ্গিনী।

উদয় শঙ্কর  নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন ‘গন্ধর্বনৃত্য’, ‘সাপুড়েনৃত্য’, ‘রাধাকৃষ্ণনৃত্য, ‘তলোয়ারনৃত্য’ এবং ব্যালে হিসেবে ‘শিবপার্বতী’, ‘লেবার এ্যান্ড মেশিনারী’, ‘রিদম অব লাইফ’ প্রভৃতি নৃত্য। ১৯৩১ সালের ৩ মার্চ প্যারিসে অনুষ্ঠিত  এই নৃত্য গোষ্ঠীর  নজরকাড়া অনুষ্ঠানের পর থেকেই উদয় শঙ্করের নৃত্য জীবনের  জয়যাত্রার শুরু হয়।

দেশে ফিরলে তাঁকে  কোলকাতার টাউন হলে দেওয়া হয় নাগরিক সংবর্ধন যেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ লাভ করে তিনি ধন্য হয়েছিলেন।১৯৩৯ সাল উদয় শংকরের জীবনে একটি স্মরণীয় বছর। তিনি উত্তরপ্রদেশের  আলমোড়ায় পাহাড়ী উপত্যকা জুড়ে ভারত বিখ্যাত ওস্তাদ শঙ্করণ নামবুদ্রীক, কন্দপ্পন পিল্লেই, আমোবি সিংহ ও আলাউদ্দীন খাঁ-কে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন   ‘উদয় শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচারাল সেন্টার’। তবে দুর্ভাগ্যবশত ১৯৪৪ সালে এই সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ভগিনী নিবেদিতার ভারতে আসা ও স্বামীজীর সাথে দুস্থের সাহায্য কাহিনী

সংগীতের পথপ্রদর্শক  উদয় শঙ্কর  ভারতের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করেছিলেন বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র।সেই সকল ভারতীয়   বাদ্যযন্ত্রগুলোর সমন্বয়ে স্বতন্ত্র এবং  নিজস্ব শব্দ ঝংকার সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। এগুলির মধ্যে অন্যতম হল  বাঁশি, সেতার, একতারা, তানপুরা এস্রাজ, সরোদ, খঞ্জনি, ঢোল ও ড্রাম।  বিদেশী যন্ত্রের ব্যবহার  উদয় শংকর তাঁর নিজের দলে কখনো  করেননি।

স্রষ্টা উদয় শঙ্কর:

উদয় শঙ্করের  অগণিত  সৃষ্টির একটি বিশেষ   দিক হল, ‘শ্যাডো প্লে যেখানে তিনি সাদা পর্দার ওপর নিজস্ব কৌশলে নতুন আলো ছায়ার ধারা সৃষ্টি  করার কৌশল আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর শিল্পীজীবনের অন্যতম অবদান হল  ‘কল্পনা’ চলচ্চিত্র। ছবিটি আর্থিক সাফল্য না পেলেও ছবিটি ছিল তাঁর এক কালজয়ী সৃষ্টি।

১৯৬৫ সালে তিনি  কোলকাতায়  গড়ে তুলেছিলেন ‘উদয় শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচার সেন্টার’। নব উদ্যমে দলকে উদ্বুদ্ধ এবং সুসংগঠিত করে ১৯৬৮ সালে তিনি  পুনরায় বেরিয়ে পড়লেন আমেরিকা সফরে যা ছিল তাঁর   জীবনের  শেষ আমেরিকা সফর।

পরবর্তীকালে রঞ্জিতমল কাংকারিয়ার সহযোগিতায় ১৯৭০ সালে  তিনি প্রযোজনা করেছিলেন ‘শঙ্করস্কোপ’ এবং ১৯৭২ সালে ‘শঙ্করস্কোপ’ ও ‘সামান্য ক্ষতি’ নৃত্য নাট্যের নবসংস্করণ  ছিল তাঁর জীবনের শেষ কীর্তি ।সৃজনশীল নৃত্য রচনার বাসনায় বৃদ্ধ  বয়সেও  কালজয়ী নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর  টালিগঞ্জের রাধা ফিল্মের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে নিয়মিত নৃত্যের মহড়া চালিয়ে যেতেন।

উদয় – ইয়ুথ উৎসব: 

১৯৮৩ সালে, উদয় শংকর ও তাঁর ছোট ভাই পণ্ডিত রবিশঙ্কর সম্মিলিত প্রয়াসে নতুন দিল্লিতে একটি বড় উৎসব পালন করেন যা চার দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছিল।”উদয়-ইয়উথ উৎসব” নামে সুপরিচিত  এই অনুষ্ঠানটিতে  অনেক বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীর সমাগম হয়।এটি একটি অসাধারণ অর্কেস্ট্রার সংগীত  প্রদর্শনী হিসেবে রূপান্তরিত হয়   যেখানে অংশগ্রহণ করেছিলেন উদয় শঙ্করের ছাত্ররা এবং তা গঠন করেন কিংবদন্তি সেতারবাদক  পন্ডিত রবি শংকর স্বয়ং নিজেই।

পারিবারিক জীবন:

উদয় শঙ্কর ১৯৪২ সালে তাঁর নৃত্যসংগী মাগুরার মেয়ে প্রখ্যাত নৃত্য শিল্পী অমলা শঙ্করের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন।১৯৪২ সালে তাঁদের   প্রথম সন্তান, আনন্দ শঙ্কর জন্মগ্রহণ করে এবং ১৯৫৫ সালে কন্যা মমতা শংকর জন্ম নেন। মমতা শঙ্কর একজন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন নৃত্য শিল্পী।পুত্র আনন্দ শঙ্কর সংগীত জগতে  আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বমহিমায় বিরাজমান। তাঁর সেতারের সুর বিশ্বনন্দিত এবং  তিনি বেশ কয়েকটি ছায়াছবিতে সুর সংযোজন ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন।  তাঁর স্ত্রী তনুশ্রী শঙ্করও একজন নামকরা নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত।  উদয় শঙ্কর, অমলা শঙ্কর, রবিশঙ্কর  থেকে শুরু করে আনন্দ শঙ্কর-মমতা শঙ্কর পর্যন্ত এক ঝাঁক উজ্জ্বলতম তারকা বাংলার  গৌরব গাঁথায় স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।

পুরস্কার ও সম্মান :

বিশ্ববরেণ্য নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর  তাঁর সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য  বিশ্ববাসীর কাছ থেকে লাভ করেছিলেন অভাবনীয় স্বীকৃতি ও সম্মান। সেগুলি হল :১৯৬০ সালে, “সঙ্গীত নাটক একাডেমী পুরস্কার”(‘ক্রিয়েটিভ ডানস’ সৃষ্টির জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছিলেন);১৯৬২ সালে, “সঙ্গীত নাটক একাডেমী ফেলোশিপ”,এই পুরস্কারটি  উদয় শঙ্করকে তাঁর জীবদ্দশায় অসামান্য  কৃতিত্বের জন্য  দেওয়া হয়।

এছাড়াও তিনি  ১৯৭১ সালে, পদ্মবিভূষণ;

১৯৭৫ সালে দেশিকোত্তম পুরস্কারে সম্মানিত হন।

এই মহান নৃত্যশিল্পীর সম্মানার্থে ভারতীয় ডাকবিভাগ তাঁর এবং তাঁর দলের ‘তান্ডব নৃত্যের’ ওপর বেশ কয়েকটি বর্ণাঢ্য ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিলেন ।

মৃত্যু:

বিশ্ববরেণ্য নৃত্য  শিল্পী উদয় শঙ্কর  ১৯৭৭ সালে ২৬ শে সেপ্টেম্বর কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ছিয়াশি বছর ।

উপসংহার:

উদয়শঙ্কর ছিলেন একজন অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন উদ্ভাবক। ধ্রুপদী ও লোকনৃত্যেকে ভিত্তি করে তিনি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছিলেন  যা ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর এবং অনন্যসাধারণ। নৃত্যের ক্ষেত্রে তিনি বয়ে এনেছিলেন  এক নতুন ভাবধারা। পৌরাণিক ও আধুনিক ভাবধারার সংমিশ্রণে আধুনিক রুচি ও ধ্যানধারণার উপযোগী নব নব ভাবধারার সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। তাই ইতিহাস এই অবিস্মরণীয় এবং  বিরল নৃত্যশিল্পীকে চিরকাল মনে রাখবে । 

প্রশ্নোত্তর – FAQ :

উদয় শঙ্কর কোথায় কবে জন্মগ্রহণ করেন?

৮ ই ডিসেম্বর ১৯০০ সালে রাজস্থানের অন্তর্গত উদয়পুরে এক বাঙালি পরিবারে জন্ম উদয় শঙ্করের, যাঁর পুরো নাম উদয় শঙ্কর চৌধুরী।

উদয় শঙ্কর নৃত্যের যে নতুন এক শৈলী আবিষ্কার করেছিলেন তাঁর নাম কী ?

‘হাই ডান্স’ শৈলী 

কেরালায় কোন নৃত্য দেখে উদয় শঙ্কর অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন?

কথাকলি নৃত্য  

উদয় শঙ্করের স্ত্রীর নাম কী?

প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী অমলা শঙ্কর  

উদয় শঙ্কর কত সালে দেশিকোত্তম পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন ?

১৯৭৫ সালে দেশিকোত্তম পুরস্কারে সম্মানিত হন  উদয় শঙ্কর।

Recent Posts