আমাদের আজকের এই পোস্টটিতে আমরা মহাভারতের উপদেশমূলক বাণী সমূহ তুলে ধরব। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ সামাজিক মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মনোভাব তুলে ধরার চেষ্টা করে, তাই আপনাদের মধ্যে যারা এই বিষয় নিয়ে স্ট্যাটাস, ক্যাপশন, উক্তি, ছন্দ ইত্যাদি খোঁজ করে থাকেন তারা এই পোস্টে থাকা লেখাগুলো খুব সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। আশা করছি এই উক্তিগুলো পাঠকদের পছন্দ মতন হবে এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করার যোগ্য হবে।
মহাভারতের বিশেষ উদ্ধৃতি, Selected quotes from Mahabharat in Bangla
আকাশ অভিমুখে থুতু প্রদানকারীর মুখ তার নিজের থুতুতেই দূষিত হয়। আকাশ তাকে ক্ষমা করে না, দন্ড দেয়।
যখন সংসারে দেখার মত কিছুই থাকে না, তখন মানুষ ঈশ্বর এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
যদি কোন ঘটনায় মানুষ ভয়প্রাপ্ত হয় তবে তার পরাজয়ই হয়, আর যে মানুষ সব হারিয়েও শান্ত আর একাগ্র থাকে সেই জয়ী।
বাস্তবে, না পরিচয় মানুষের দেহের সাথে যুক্ত থাকে, না তো সম্পর্কের ভিত্তি তার দেহের সাথে যুক্ত থাকে। মানুষের স্বভাব, তার আচরণ আর তার কার্যই তার পরিচয়।
দান তাকেই বলে যাতে দানী হারায় আর যাচক প্রাপ্তি লাভ করে। কিন্তু বলিদান সেটাই হয় যা দানী দেয় আর সমস্ত জগৎ প্রাপ্ত করে।সমুদ্র হোক বা সংসার যে ধর্মের নৌকা প্রস্তুত করে সে ঠিক পার হয়ে যায়।
রাজনীতি পাশার চালের মতো। যদি পাশার দান পাল্টে যায় তবে পাশার চালটাও পাল্টাতে শিখতে হয়।
সময় কখনও মানুষের নির্দেশিত পথে চলে না, মানুষকে সময়ের নির্দেশিত পথে চলতে হয়।
নিজের চেয়ে দুর্বল ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাইলে শৌর্য প্রকাশ পায়। কিন্তু যে নিজের চেয়ে শক্তিশালী তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা কাপুরুষের কাজ।
প্রত্যেক স্ত্রী-লোক মাতা দূর্গার আরেক রূপ হয়। যে ব্যক্তি স্ত্রী লোকের সম্মান করে না, তার সামর্থই বৃথা।
ধর্মের উপদেশ দেয়া যায়, আদেশ কিছুতেই দেয়া যায় না। সকলকে নিজের ধর্ম স্বয়ং নিশ্চিত করতে হয়।
যে বস্তু সহজেই লাভ করা যায়, সে বস্তুর প্রতি মানুষের মূল্যবোধ থাকে না।
চরিত্রের পরীক্ষা তখনই হয়, যখন অপরিচিত কারো সংস্পর্শে আসা হয়।
স্বাধীনতা মানুষের স্বভাবজাত। এটা কোন বস্তু নয় যে কেউ হরণ করবে।
জয়ের জন্য বলের চেয়ে অধিক ছলের প্রয়োজন।
সুগন্ধ, দুর্গন্ধ ও মানুষের স্বভাব কখনো গোপন থাকে না।
মহাভারতের বিশেষ উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি শ্রী রাম নিয়ে উক্তি সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
মহাভারতের উপদেশ মূলক বাণী, Best sayings from Mahabharata
যেভাবে বৃক্ষের মূল বৃক্ষকে খাদ্য যোগায়, সেভাবে মানুষের গর্ব মানুষকে শক্তি যোগায়।
পরিস্থিতিকে যদি নিজের অনূকুলে না আনতে পার, তবে তাকে শত্রুর প্রতিকুল বানিয়ে ফেলো।
অরণ্যের লতা বৃক্ষের কাছে আশ্রয় নেয়, তারপর সেই বৃক্ষকেই গ্রাস করে ফেলে।
তলোয়ারকে একবারই শান দিতে হয়। বারবার শান দিলে সে তলোয়ার এতটাই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় যে, তা যুদ্ধের ময়দানে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
যারা শত্রুর শত্রু হয়, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হয়।
যেখানে বল কাজ করে না, সেখানে ছল কাজ করে।
বিরোধিতা শক্তির প্রমাণ হয় না। শক্তিমান সেই যে সহনশীল, সহ্য করতে পারে। যখন হৃদয় থেকে ক্রোধ আর বিরোধিতা দূর হয়ে যায়, তখন সহনশক্তি ধর্মের শক্তিতে পরিণত হয়।
সাধুর মৌনতা এক অসাধুর শব্দ অপেক্ষা অধিক অপরাধের।
ক্রোধ থেকে প্রতিশোধের জন্ম হয় আর ধর্ম থেকে ন্যায় জন্মায়। তোমার জীবনেও যদি এমন সময় আসে, যখন তোমার উপর কোন অন্যায় হয় তবে ন্যায় করার পূর্বে নিজের ক্রোধের উপর অঙ্কুশ অবশ্যই রেখো।
মানুষের মন ঘুড়ির মতো উড়ে-ফেরে। ইচ্ছের বাতাসে সংযমের সূতো ছুটে যায় অথবা কেটে যায়। মন তখন ইচ্ছের ঝাপটায় টাল মাতাল হয়ে যায়, ভবঘুরে হয়ে যায়।
মনুষ্য এই ভ্রমে থাকে যে সকল নির্ণয় সে স্বয়ং করছে। কিন্তু চোখে আবেগের অবগুণ্ঠন বেঁধে যারা আছে তারা স্বয়ং নির্ণয় কি করে করতে পারে? বাস্তবে সব নির্ণয় নিয়তিই করে।
ভবিষ্যৎকে শুদ্ধ করার জন্য এই অশুদ্ধ বর্তমানকে ধ্বংস করা অনিবার্য। ভবিষ্যতের উদীয়মান সূর্যের প্রথম কিরণকে দেখো, যা সবার জন্য প্রতীক্ষা করছে।
এই পৃথিবীতে পরিলক্ষিত সকল মানুষ তা নয় যা তুমি ওদের গণ্য করছ, কিছু সময়ের জন্য এরা শরীরে বসবাস করছে মাত্র। এদের শরীরের মৃত্যু হবে কিন্তু এরা সবাই অমর। সে পুনরায় নতুন শরীর ধারণ করবে।
মহাভারতের বিশেষ উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি ভীষ্মের উপদেশমূলক বাণী সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
মহাভারতের চিরস্মরণীয় উক্তি, Unforgettable Bengali quotes from Mahabharat
প্রেম উন্নতি দেয়, উচিৎ অনুচিতের জ্ঞান দেয়। প্রেম আর মোহের মাঝে পার্থক্য থাকে। বাস্তবে যা প্রেম, তা কোন মোহ নয়। প্রেমের জন্ম করুণা থেকে হয়, আর মোহের জন্ম অহংকার থেকে। প্রেম মুক্তি দেয়, মোহ আবদ্ধ করে। প্রেম ধর্ম, আর মোহ অধর্ম।
কিন্তু যদি কেউ সবকর্মকেই ত্যাগ করে, সেটা কি প্রকৃত প্রার্থনা? বাস্তবে কর্মই জীবন আর ফলের প্রতি মোহ না করাই সত্যিকারের প্রার্থনা। যে প্রার্থনা কর্মের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, মানুষকে কার্যই করতে না দেয়, সেটা প্রার্থনা না পরাজয়? স্বয়ং বিচার করুন।
ভালো ব্যাবহার ভবিষ্যতে সুখের পথ দেখায় না, ভালো ব্যাবহার নিজেই সুখ দেয়। অপরদিকে দুর্ব্যবহার ভবিষ্যতে দুঃখের পথ দেখায় না, অধর্ম সেই মুহূর্তে দুঃখকে উৎপন্ন করে। ধর্ম থেকে সুখ পাওয়া যায় না, ধর্মই স্বয়ং সুখ।
ভবিষ্যৎ তো প্রতিদিন, প্রতি ক্ষণে নির্মিত হয়। ভবিষ্যৎ যে কিছু নয়। মানুষের আজকের নির্ণয় ও কর্মের পরিনাম আগামীর ভবিষ্যৎ। আপনি যদি আজ কোন নির্ণয় করে সন্তোষ বোধ করেন, তবে বিশ্বাস রাখুন ভবিষ্যতে অবশ্যই তার থেকে সুখ লাভ হবে।
কর্মযোগী নিজের মনের সমস্ত লালশাকে নিষ্কাশন করে, জীবনেকে কর্তব্য মনে করে কার্য অবশ্যই করে, সেই কার্যে আবদ্ধ হয় না, অর্থাৎ যে ব্যাক্তি নিজের কার্য থেকে আশা বা আকাঙ্খরা রাখে না তারই কার্য পূর্ণ হয়।
ভয় কী? ভয় কেবল আগামী দুঃখের কল্পনা মাত্র। বাস্তবের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ভয় আর কিছু নয়, কেবল কল্পনা মাত্র। ভয় থেকে মুক্তি পাওয়া কি খুব কঠিন কাজ? অবশ্যই বিচার করে দেখুন।
যখন মানুষ তার কোন একটি ক্ষেত্রে বাধা, কোন একটি অবরোধকে জীবনের কেন্দ্র বানিয়ে নেয়, নিজের জীবনের গতিই থামিয়ে দেয়, তখন সে তার জীবনে সফল হতে পারে না। পারে না সুখ আর শন্তি প্রাপ্ত করতে, অর্থাৎ জীবনকে নিজের যোগ্য করে তোলার বদলে স্বয়ং নিজেকে জীবনের যোগ্য গড়ে তোলাই কি সাফল্য আর সুখের একমাত্র মার্গ নয়? স্বয়ং বিচার করুন।
যে মাতাপিতা কেবল নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেন তার চরিত্রের নির্মাণ করেন সেই সন্তানের প্রশস্তি বিশ্বসংসার করে। স্বয়ং বিচার করুন।
সুখের কামনা যে করে তার সুখ লাভ হয় না, যে সুখ চিনতে পারে তারই সুখ লাভ হয়। তুমি যদি এটা জেনে যাও যে তোমার জন্য সুখ কি, তবে তুমি সুখ অবশ্যই পাবে।
যে কেবল নিজের পীড়াকে আপন করে জীবন কাটায়, সে শক্তিহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু যে ব্যক্তি সমগ্র সমাজের পীড়াকে আপন হৃদয়ে ধারণ করে জীবন কাটায়, সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সুখ তো উপলব্ধী করার বস্তু, প্রাপ্ত করার বস্তু নয়। যে ব্যক্তি বস্তুকে সুখ বলে মানে বাস্তবে তার সুখ প্রাপ্ত হয় না। যে সত্তা অথবা সম্পত্তিকে সুখ বলে গন্য করে সে অবশ্যই নিজের জন্য বিনাশকে আমন্ত্রণ জানায়।
“যে বস্তু সহজেই লাভ করা যায়, সে বস্তুর প্রতি মানুষের মূল্যবোধ থাকে না”
“দুৰ্য্যোধন!! আমি তোমার নিমিত্ত শোক করিতেছি না; তোমার বৃদ্ধ পিতামাতার জন্যই শোকাকুল হইতেছি; তোমার হৃদয় এমন জঘন্য ও তুমি এমন পাপাত্মা কুলনাশক যে, ইহারা তোমাকে উৎপাদনা করিয়া হতমিত্র ও হতামাত্য হইয়া ছিন্নপক্ষ পক্ষীর ন্যায় অনাথ হইবেন; আর পরিশেষে ইঁহাদিগকে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করিয়া শোকাকুলিতচিত্তে সমুদয় পৃথিবী পর্য্টন করিতে হইবে।”
আমরা চেষ্টা করেছি আজকের এই পোস্ট দ্বারা মহাভারতের উপদেশমূলক বাণী সমূহ আপনাদের কাছে তুলে ধরার। আশা করি আজকের এই পোস্ট ভালো লেগেছে। এই পোস্টটি যদি আপনাদের মনোগ্রাহী হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার আত্মীয়পরিজন ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারেন। এরূপ আরো পোস্ট পাওয়ার জন্য নজর রাখুন আমাদের এই ওয়েবসাইটে।