চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লাতৃতীয়া অর্থাৎ শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে অক্ষয় তৃতীয়া পালন করা হয়। এই তিথি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে। ভারতের কিছু অঞ্চলে অক্ষয় তৃতীয়া, ‘আখা তিজ’ নামেও পরিচিত। অক্ষয় তৃতীয়া অত্যন্ত শুভ একটি তিথি। ‘অক্ষয়’ কথটির অর্থ ক্ষয় না হওয়া। বৈদিক বিশ্বাস অনুযায়ী এই পবিত্র দিনটিতে যদি কোন শুভকার্য সম্পাদন করা হয় তাহলে হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে।
অক্ষয় তৃতীয়া দিনটির মাহাত্ম্য, Significance of Akshay tritiya in bengali
ভারতবর্ষে পৌরাণিক যুগে অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ দিনটিতে নানা প্রকার শুভ কার্যাবলীর সূত্রপাত ঘটেছিল।
*কেদার-বদ্রী-গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রীর যে মন্দির ছয়মাস ধরে বন্ধ থাকে তার দ্বার উদ্ঘাটন হয় এই বিশেষ দিনটিতেই এবং দ্বার উন্মোচন করার সাথে সাথেই দেখতে পাওয়া যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।
*অক্ষয় তৃতীয়ার এই পুণ্য লগ্নে বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
* বেদব্যাস ও গণেশ মহাভারতের রচনা শুরু করেন এই দিনটিতে।
*বলা হয়ে থাকে এই দিনে দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটেছিল।
*পবিত্র পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণের স্বীকৃতি ঘাটে এই দিনটি থেকেই এবং শ্রীকৃষ্ণের চন্দন যাত্রা ও শুরু হয়েছিল এই একই দিনে।
*ধূমাবতী এবং গঙ্গাদেবীর আবির্ভাব তিথি এই বিশেষ দিনটি থেকেই ধার্য করা হয় ।
* শ্রীকৃষ্ণের পরম মিত্র সুদামা শ্রীকৃষ্ণকে অন্ন ভোগ দান করেন; পরিবর্তে কৃষ্ণ তাঁর এই প্রিয় বন্ধুকে সুখ ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ করেছিলেন এই দিনে।
*মহাভারতে বর্ণিত আছে যে বনবাসে থাকাকালীন এই অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ দিনটিতে শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে অক্ষয়পাত্র দান করেন যাতে বনবাসে তাঁদের কখনোও খাদ্যাভাবে পড়তে না হয়।
*কথিত আছে যে অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ দিনটিতে মহাদেবকে তপস্যায় সন্তুষ্ট করে অফুরন্ত ধনসম্পদ এবং ঐশ্বর্য প্রাপ্তির বর লাভ করেছিলেন কুবের এবং এইবএক ই দিনে কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়ে থাকে।
*এই দিনেই সমাপ্তি ঘটে সত্যযুগের এবং ত্রেতাযুগের সূত্রপাত ঘটে।
* বিশ্বাস করা হয় যে এই বিশেষ দিন কারও মৃত্যু হলে তাঁর অক্ষয় স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটে থাকে।
অক্ষয় তৃতীয়া নিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি 350+ পয়লা বৈশাখ এর শুভেচ্ছাবার্তা সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ দিনটিতে কী কী করণীয়, What to do on the special occasion of Akshay Tritiya
** অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ দিনটিতে রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করে সেই মূর্তি যুগলের চরণে চন্দন দিলে শুভ ফল লাভ করা যায়।
**এই বিশেষ দিনে শ্রী গণেশ ও মা লক্ষ্মীর পুজো করে তাঁদের চরণে সিঁদুরের ফোঁটা দেওয়া অতীব মঙ্গলসূচক।
**এই দিন ব্রাহ্মণকে জল, পাখা, বস্ত্র, চন্দন, নারকেল এবং অন্ন দান করতে পারলে তা সংসারের জন্য অত্যন্ত শুভ ফল বয়ে আনে।
** অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ মুহূর্তে পাঁচ জন বিবাহিত মহিলাকে আলতা ও সিঁদুর দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়। তাছাড়া যে কোনও মন্দিরে মরশুমী ফল দান করলেও শুভ ফল লাভ করা যায়।
**এই দিন বাড়ি বা জমি ক্রয় করা খুবই মঙ্গলজনক ,তা ছাড়াও গাড়ি এবং বাড়ির নানা আসবাবপত্র কিনলে সংসারে শ্রীবৃদ্ধি ঘটে থাকে। তবে যাঁদের গাড়ি ,বাড়ি ,জমি বা সোনা, রুপা কেনার আর্থিক সংগতি নেই তাঁরা কাঁচা সব্জি বা যে কোনও শস্যদানা, ঘি এবং বাড়ির বাচ্চাদের জন্য কিছু জিনিস অবশ্যই কিনে আনতে পারেন এই শুভ দিনটি উপলক্ষ্যে ।সোনা, রুপো সম্ভব না হলে যে কোনও ধাতুর কোনও জিনিস কিনে আনা খুব শুভ।
*অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি থেকে নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে তা লাভজনক হবে বলে আশা করা হয়। এছাড়া এই শুভ তিথিতে গৃহপ্রবেশ করা, দানধ্যান করা, গরুকে খাওয়ানো শুভ কাজ বলে মনে করা হয়। পুরাণ মতানুসারে , অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ দিনটিতে সমস্ত পাপ নাশ এবং সমস্ত ধরণের সুখ লাভ করা যায় বলে মানা হয়।
অক্ষয় তৃতীয়া নিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি মাঘ বিহু বা ভোগালি বিহুর শুভেচ্ছা বাণী সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
অক্ষয় তৃতীয়ার শুভেচ্ছা আপনজন, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনদের উদ্দেশ্যে, Wishes and greetings on Akshay Tritiya in Bangla
- এক লাইনের বাংলা শায়েরী, মিনি শায়েরী, Bangla One Line Shayari
- বন্ধুত্ব শায়েরী, বন্ধু নিয়ে শায়েরী | Friendship Shayari in Bengali
- প্রেমের বাংলা শায়রী / Romantic Bangla Shayeri
- নতুন বাংলা শায়েরী ২০২৬ | New Bangla Shayari 2026
- কষ্টের বাংলা শায়েরী, Sad Bangla Shayri
অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং শুভেচ্ছাবার্তা আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে । অক্ষয় তৃতীয়ায় পাঠানো প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছাবার্তা গুলি আপনার আত্মীয় এবং আপনজনদের সাথে তাই শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না । আশা করা যায় যে এভাবেই একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা আদান প্রদানের মাধ্যমে এই দিনটির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে: