গ্রীষ্মের এই ধ্যান স্তব্ধ মূর্তি নিঃশব্দে উদ্বুদ্ধ করছে ত্যাগের মন্ত্রে । যা কিছু জীর্ণ ,পুরাতন, অব্যবহার্য তা নিঃশেষ করে দিতে গ্রীষ্মের আবির্ভাব ।ধীরে ধীরে বিক্রম বাড়ে তার; সওয়ার থেকে সারথি হয়ে চরাচর কে সে তাতিয়ে বেড়ায়। ধরাতল শুষ্ক হতে হতে হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করে, ‘গ্রীষ্ম এল’।নিম্নে উল্লিখিত হল গ্রীষ্মকাল নিয়েই কিছু মনোগ্রাহী উক্তি বিশেষ।
সে আসবে ভেবে ভয় ,আসছে দেখলে আতঙ্ক, এসে গেলে অস্বস্তি ;গ্রীষ্ম ছাড়া আর কি ?
বাংলার জীবনপ্রবাহে গ্রীষ্মের শাসন মানে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।
গরমে ঝলসে যাচ্ছে দেহতিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছে মনওষ্ঠাগত এই জীবন।
দুঃখদিনের সুখস্বপ্ন দেখার যে আনন্দদারুণ গ্রীষ্মে শ্রাবণ রাত্রির কল্পনাতেই সেই সুখ।
বৈশাখ যেন রুদ্র ভৈরব ;এক সর্বব্যাপী রুক্ষতা বিরাজ করে চারিদিকে।
গ্রীষ্মের দুপুরে চারপাশের জগৎ যেন কোনও এক আসন্ন মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় স্তব্ধ হয়ে থাকে ।
গ্রীষ্মকাল প্রকৃতপক্ষে আলস্যের কাল।
আরাম-বিলাসের দিক দিয়েগরমকালটা একটু পিছিয়ে।
বাংলা বছরের প্রথমমাস হিসেবে বৈশাখের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
কাঠফাটা গ্রীষ্মকাল নিয়ে উক্তিসংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি শীতকাল নিয়ে উক্তি সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
গ্রীষ্মকালের জন্যে হোয়াটস্যাপ স্টেটাস, Scorching Summer Season Status in Bengali
ধু ধু রুক্ষ দুই চোখে প্রখর অগ্নিদাহ নিয়ে ক্রুদ্ধরূপে আবির্ভাব ঘটে রুদ্র তাপস গ্রীষ্মকালের।
বঙ্গদেশে গ্রীষ্মকালে সর্বত্রই যেন মরুভূমির ধূ ধূ বিস্তার। ধরিত্রীর বুক থেকে উধাও প্রাণের চিহ্ন , শ্যামলতার কিঞ্চিৎ মাত্র আভাস ।
গ্রীষ্মের দারুণ তাপদাহে সমগ্র জীবজগতে, উদ্ভিদ জগতে নেমে আসে প্রাণহীন, রসহীন বিবর্ণতার পাণ্ডুর ছায়া;গ্রীষ্মের এ এক দুর্নিবার কায়া।
ধুলায় ধূসর রুক্ষ উদ্দীন পিঙ্গল জটাজাল নিয়ে তপক্লিষ্ট , তপ্ত তনু ,ভীষণ -ভয়াল গ্রীষ্ম ধরিত্রীর বুকে আসে এক অযাচিত অতিথি রূপে ।
গ্রীষ্ম ফুলের ঋতু নয় ;ফুল ফোটাবার দায়িত্ব তার নেই ।ফলের ডালা সাজাতেই যে তার বেলা বয়ে যায়।
গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূমি,জল যায় শুকিয়ে ,নদী হারায় তার নাব্যতাজরাজীর্ণ মাটিতে ধরে ফাটল।
গ্রীষ্মের অলস দুপুরেজানলার বাইরে তাকালেচোখ যায় ঝলসেকর্ম ক্ষমতা পায় হ্রাসমানুষ হয়ে পড়ে আলসে ।
মানব শ্রেণিতে যেমন তপস্বীপর্বত পুরীতে যেমনে মৌন গম্ভীর শিখরঋতু চক্রে ও তেমনি গ্রীষ্ম কঠোর ,অনমনীয় ।
গ্রীষ্মের দহন থেকে পরিত্রাণের পথ নেই বললেই চলে।
বাংলার ঋতুচক্রে গ্রীষ্মকাল যেন এক উদ্ধত কালভৈরব ।
ধীর স্পর্ধিত পদক্ষেপে আগমন ঘটে গ্রীষ্মকালের।
গ্রীষ্মের বিক্রম যতই বাড়েততই শুষ্ক হতে থাকে ধরণীতল।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে গ্রীষ্মের রৌদ্রকে মনে হয় বিভীষিকা।
কাঠফাটা গ্রীষ্মকাল নিয়ে উক্তিসংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি রঙিন বসন্তের বর্ণময় উক্তি সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
কাঠফাটা গরমকালের ফেইসবুক ইনস্টাগ্রাম ক্যাপশন ~ Bengali Lines about the Hot Summer Season
গ্রীষ্ম যত এগোয় তার শাসনের বহরও তত বাড়ে। ভরা -গ্রীষ্মে প্রভাত ও হয় তপ্তসে আসে সারাদিনের দুঃখের ডালি হাতে।
কাজের মানুষ গ্রীষ্মের পীড়নে ক্রীতদাসের খাতায় নাম লেখান।
গ্রীষ্মকালের এক একটি দিন যেন মূর্তিমান এক -একটি পরীক্ষা স্বরূপ।
গ্রীষ্ম যেমন দারুণ দহনবেলার রসহীনতার চিত্র ধরণীর বুকে আঁকে ,আবার বৈশাখী ঝড় এসে সকল জীর্ণতার অবসান ঘটিয়ে নতুনের আগমনের পূর্ব সংকেত প্রদান করে।
গ্রীষ্মের কখন ও বা কঠোর রূপ, বৈরাগীর বেশ, অন্যদিকে তার রস-কোমলতা ও সৃষ্টির স্নিগ্ধতা ও চোখে পড়ে।
বাংলাতে ঋতু গ্রীষ্ম নিয়ে শায়েরি ও কবিতা ~ Bangla Shayeri on Summer Season
শরীরের ভেতরটা করে দিলে ছারখারবলো,এভাবে কি থাকা যায় আর??বসন্তের রেশটুকু হয়নি যে পারচেয়েছিলাম শীতলতার পরশ একটুতাই কি ছিল আমার বাড়াবাড়ি???গ্রীষ্মবাবু… তোমার সাথে আমার চিরকালের আড়ি!!!
নিঃশেষিত তনু ,ওষ্ঠাগত প্রাণ,এই কষ্টের করা যাবে না বয়ানকত মাস ধরে চলে এই দৃশ্যনিস্তেজ করে ছাড়ে প্রখর এ গ্রীষ্মনিষ্ঠুর তুমি ,বোঝ না কি মানুষের কষ্ট?ক্লান্ত পথিক তোমার তেজে হয়েছে আজ পথভ্রষ্ট।দুর্বিষহ প্রখর তপ্ত দিনেমানুষ যখন খোঁজে কিছুটা শীতলতার স্পর্শতুমি কেন করো না তার পরোয়া ?মানবজাতির প্রতি হয় না কি দয়া?ছারখার দেহে জ্বলনের দাগ সুস্পষ্টমানসিক পরিস্থিতি আজ সম্পূর্ণ বিনষ্ট ।
উন্মত্ত, তা বিক্ষিপ্ত বৈশাখের বায়ুধ্বংস করে না শুধু,বাড়ায় সে পৃথিবীর আয়ু।
ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম,খাইখাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব !চোখে যেন দেখি তার ধুলিময় অঙ্গ,বিকট কুটিলজটে ভ্রুকুটির ভঙ্গ,রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে,ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে !মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রেতেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে !ভয় লাগে হয় বুঝি ত্রিভুবন ভস্ম-
গ্রীষ্মের আগমনের ফলে বাংলার প্রকৃতিতে রুক্ষতা নেমে আসে,প্রচণ্ড রোদের তেজে গাছের সবুজ রং বিবর্ণ হয়ে যায়, মানবকুল হারায় তার স্বচ্ছন্দ ও আরাম । তাই অবশ্যম্ভাবী ভাবে গ্রীষ্মকাল বছরের সবচেয়ে কষ্টের কাল বা ঋতু। তবুও সব খারাপের মধ্যে একটি ভালো দিকও লুকিয়ে থাকে । গ্রীষ্মের সুমিষ্ট ফলমূল, নববর্ষ উৎসব, জামাই ষষ্ঠী ইত্যাদি আমাদের জীবনে আনন্দ প্রদান করে। গরমের দহনজ্বালা ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়ে আমরা উৎসবের খুশিতে মেতে ওঠি।
কাঠফাটা গ্রীষ্মকাল নিয়ে উক্তিসংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি ঋতুরাজ বসন্ত সেরা রচনা সম্পর্কিত আমাদের পোস্টটি ও আপনাদের মনের মতন হবে।
পরিশেষে, Conclusion
কাঠফাটা গ্রীষ্মকাল নিয়ে উক্তি সংক্রান্ত আজকের এই পোষ্টটি আপনাদের পছন্দ হলে আশা করব আপনারা আপনাদের বন্ধু মহলে, পরিজনকেও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টটি শেয়ার করে নেবেন।