ইস্টার সানডে (Easter Sunday) খ্রিস্টানদের একটি বিশেষ উৎসব। এইদিনে খ্রিস্টধর্মলম্বীরা বেশ কিছুদিন ধরে নানা রকমের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কার্যসূচি পালন করে। মূলত খ্রিস্ট ধর্মের পুনরুত্থানকে স্মরণ করার জন্যই এইদিনটির নামকরণ করা হয়েছে দেবী ‘ ইয়োস্ত্রে ‘ র নাম অনুযায়ী যেটির উৎপত্তি হয়েছে জার্মান শব্দ ‘ইয়োস্ত্রি’ বা ‘ইয়োস্ত্রে’ শব্দ থেকে।
ইয়োস্ত্রে হলেন প্যাগান দেবী। তিনি নবজন্ম ও উর্বরতার দেবী। তাঁর প্রতীক হলো ডিম। আসলে তাঁরা মনে করেন এই দিনেই যীশুখ্রিস্ট মৃত্যুকে জয় করেছিলেন অর্থাৎ এইদিনটি পুরোনো জীবন থেকে নতুন জীবনের শুরুর দিন। গুড ফ্রাইডে’তে যীশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর তার মৃত্যুর তিন দিন পর রবিবারে যীশুখ্রিস্ট মৃত্যুকে জয় করে মানুষের মাঝে ফিরে এসেছিলেন।

নিউ টেস্টামেন্ট অনুযায়ী রোমান কর্তৃপক্ষরা প্রভু যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল কারণ তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি ‘ইশ্বরের সন্তান’। রোমান রাজ্যপাল পন্টিয়াস পিলাত তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহ, সিজারকে রাজস্বদানে বাধা ও নিজেকে রাজা ঘোষণা করার অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু যীশু মৃত্যুর তিনদিন পর আবারো জীবিত হয়ে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে তিনি সত্যিই ভগবানের সন্তান।
এরজন্যই এইদিনটি খ্রিস্ট ধর্মের মানুষদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের দিন। এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হল নিজেকে মানুষের সেবায় উৎসর্গ করে সত্য ও সুন্দরের পথে অগ্রসর হওয়া। এইদিনে খ্রিস্ট ধর্মের মানুষরা গির্জায় প্রার্থনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত করেন।
ইস্টার সানডের কোনো সঠিক সময় বা তারিখ নেই। ২১ মার্চের পর যেদিন আকাশে প্রথম পূর্ণ চাঁদ দেখা যাবে তারপরের রবিবারকেই ইস্টার বলে পালন করা হয় যেটি গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মে মাসের মধ্যের সময়। এইদিনে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ‘ইস্টার এগ’ বিতরণ করা হয় যেটি যীশুখ্রিস্টের পুনঃজন্মের।
অনেকে এই এগগুলোতে নানাধরনের কারুকার্যও করে। বাচ্চাদের চকোলেট এগও বিতরণ করা হয়। এই বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ২০ এপ্রিলে ইস্টার সানডে উদযাপন করা হবে। ইস্টার বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন স্প্যানিশ ভাষায়, এটিকে “পাসকুয়া” , ফরাসি ভাষায় এটিকে “পাকুয়েস” এবং জার্মান ভাষায় “অস্টার্ন” বলা হয়।
যেকোনো উৎসবই নিজের কাছের মানুষের সাথে উদযাপন করলে সেই আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে একসাথে উদযাপন করতে না পারলে টেক্সট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও আমরা আমাদের প্রিয়জনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারি। নিচে পরিবেশ করা হল ইস্টার উপলক্ষে কিছু শুভেচ্ছা বার্তা যা আপনাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।
ইস্টারের শুভেচ্ছা বার্তা, Easter Wishes








ইস্টারের শুভেচ্ছা বার্তা সংক্রান্ত আমাদের আজকের এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে আশা করি যীশু খ্রীষ্টকে নিয়ে লেখা উক্তি সম্পর্কিত আমাদের এই পোস্টটি ও আপনার মনের মতন হবে।


পরিবারের জন্য শুভ ইস্টার শুভেচ্ছা বার্তা, Easter Wishes for Family







- আন্তর্জাতিক মৃগীরোগ দিবসের বার্তা, International Epilepsy Day Quotes in Bengali
- বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের ইতিহাস ,স্লোগান ও বার্তা World Hepatitis Day History, slogan and quotes
- শুভ ওনাম শুভেচ্ছা 2025, Happy Onam 2025 in Bengali
- শুভ জন্মদিন প্রিয়, Happy birthday dear in bangla
- নাগ পঞ্চমীর ইতিহাস, উক্তি, স্ট্যাটাস ও বার্তা, Nag Panchami quotes and status in Bengali




পরিশেষে
ইস্টারে মূলত যীশুখ্রিস্টের মানুষের প্রতি আত্মত্যাগের কথাই স্মরণ করা হয়। এইদিনে সকলের উচিত শত্রুদের ক্ষমা করে সকলের মধ্যে ভালবাসা ছড়িয়ে দেওয়া কারণ প্রভু যীশুও তাই করেছিলেন। এইদিনে অসহায় মানুষের সাহায্য করা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন। এই উৎসবটি শুরু হয় অ্যাশ ওয়েডনেসডে দিয়ে ও শেষ হয় ইস্টার সানডের আগের দিন। যেই সপ্তাহে এই উৎসবটি শেষ হয় তাকে পবিত্র অথবা পূণ্য সপ্তাহ বলা হয়। সেই সপ্তাহের বৃহস্পতিবার জল মন্ডি থার্সডে অর্থাৎ যেইদিন ভগবান যীশু লাস্ট সাপার করেছিলেন।
অন্যদিকে গুড ফ্রাইডে হল যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দিন। এই উৎসবটি একটি রবিবার পালন করা হলেও আরও কয়েকটি রবিবার পর্যন্তও সেটি উদযাপন করা হয়।ইস্টারের দিনে নানা জায়গায় নানারকমের খাবার খাওয়া হয়। কিছু কিছু জায়গায় হ্যাম, হট ক্রস বান (যেটি প্রভু যীশুর ক্রুশবিদ্ধের প্রতীক) খাওয়া হয় তো কিছু কিছু জায়গায় নানারকমের মিষ্টি যেমন ইস্টার কেক ও ক্যান্ডি খাওয়া হয়।
ইস্টার কিন্তু বিভিন্নভাবে পালন করা হয় যেমন নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইস্টার প্যারেড, ইউরোপীয় দেশে ইস্টার বনফায়ার, আবার কিছু কিছু জায়গায় পাহাড়ের নীচে ইস্টারের এগও গড়ানো হয়। আশা করছি আমাদের এই প্রতিবেদনটি আপনাদের পছন্দ হবে । যদি পছন্দ হয় তাহলে এই পোস্টটি আপনি আপনাদের বন্ধু, আত্মীয় স্বজন ও চেনা পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারেন।