ইলন মাস্কের জীবনী, Best ever biography of Elon Musk in Bengali



বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন রিভ মাস্ক হলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা। তিনি বহু ব্যবসায়িক কোম্পানির সাথে অংশীদারিত্বে আছেন। সম্প্রতি তিনি টুইটার ক্রয় করে এর মালিকানা দখল করে নিয়েছেন। ২০১৮ সালে ইলন মাস্ক ‘ফেলো অব দি রয়্যাল সোসাইটি’ নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ইলন মাস্ক বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এবং তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইলন মাস্কের জীবনী

ইলন মাস্কের শৈশবকাল এবং পরিবার পরিচিতি, Elon Musk Childhood and Family Profile

ইলন মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৮ শে জুন তাঁর জন্ম হয়। মাস্কের মা একজন কানাডিয়ান মহিলা এবং বাবা দক্ষিণ আফ্রিকান; মায়ের নাম মেই মাস্ক যিনি পেশায় একজন মডেল এবং ডায়েটিশিয়ান ছিলেন। অন্যদিকে বাবা দক্ষিণ আফ্রিকার একজন তড়িৎ প্রকৌশলী তথা নাবিক, বৈমানিক, পরামর্শক এবং সম্পত্তি বিকাশকারী ছিলেন। মাস্কের দুজন ছোট ভাই ও বোন আছে, যাদের নাম কিম্বল এবং টসকা।

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় নিজের শৈশব জীবন কাটিয়েছিলেন। পরবর্তী কালে, ১৯৮০ সালের দিকে তাঁর বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, এরপর থেকে মাস্ক বেশিরভাগ সময় নিজের পিতার কাছে প্রিটোরিয়া শহরেই বাস করছিলেন। তিনি বাবার সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিন্তু পরে বিভিন্ন কারণে এই সিদ্ধান্তের জন্য আফসোস করেন। একসময় মাস্ক ও তাঁর বাবার মধ্যে বেশ দূরত্বের সৃষ্টি হয়ে যায়। 

ইলন মাস্কের শৈশবকাল এবং পরিবার পরিচিতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জীবনী, Best ever biography of President Donald Trump in Bengali 

ইলন মাস্কের শিক্ষাজীবন, Educational life

ইলন মাস্ক শৈশবকাল থেকেই বই পড়ার প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। যখন তাঁর বয়স মাত্রই দশ বছর তখন কমোডর ভিআইসি-২০ কম্পিউটার ব্যবহার করতে শুরু করেন তিনি এবং এর থেকেই কম্পিউটারের উপর তাঁর আগ্রহ জন্মায়। বারো বছর বয়সী মাস্ক বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে ব্লাস্টার নামক এক ভিডিও গেম তৈরী করেন, যা পিসি এন্ড অফিস টেকনোলজি ম্যাগাজিনের কাছে তিনি ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেন।

শৈশবকালে প্রচন্ড উৎপীড়নের শিকার হয়েছিলেন ইলন মাস্ক, এমনকি একবার একদল ছেলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে ফেলে দেয় তাঁকে। এরজন্য তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি প্রিটোরিয়া বয়েজ হাই স্কুলে পড়াশুনা করেছিলেন। উক্ত স্কুলে পড়ার আগে তিনি ওয়াটারক্লুফ হাউস প্রিপারেটরি স্কুল এবং ব্রায়স্টন হাই স্কুল থেকেও শিক্ষা অর্জন করেন।

কানাডা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অনেকটা সহজ হবে জানার পর, মাস্ক নিজের কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত মায়ের সাহায্যে কানাডার পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন এবং ভিসা প্রাপ্তির কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ছয় মাস প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। পরে ১৯৮৯ সালের জুন মাসে কানাডায় চলে যান এবং সেখানে তিনি তরুণদের জন্য নির্মিত এক হোস্টেলে বসবাস করতে শুরু করেন।

ইলন মাস্কের শিক্ষাজীবন

পরবর্তী সময়ে, ১৯৯০ সালে মাস্ক কানাডার অন্টারিও রাজ্যের কিংস্টন শহরের কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে দুই বছর পড়াশুনার পর পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি স্থানান্তরিত হয়ে যান। ১৯৯৭ সালে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্টন স্কুল থেকে অর্থনীতি এবং ইউপ্যান স্কুল অব আর্টস এন্ড সায়েন্স থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক অর্জন করেন তিনি । মাস্ক ১০০,০০০ ডলার শিক্ষার্থী ঋণ নিয়ে কলেজ থেকে স্নাতক অর্জন করেছিলেন।

বিল গেটস এর জীবনী, Best ever biography of Bill Gates in Bengali

ইলন মাস্কের ধনসম্পত্তি, Wealth and possessions 

ধনকুবের ইলোন মাস্ক ২০১২ সালে প্রথম ফোর্বস বিলিয়নেয়ার্স তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন, তখন তাঁর মোট সম্পদ ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। ২০০২ সালে তিনি ইবেতে পেপালের ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রয় করে দিয়ে নিজের ভাগ্য তৈরি করেছিলেন। ২০২০ এর শুরুর দিকে, মাস্ক ছিলেন বিশ্বের ৩৫ তম ধনী ব্যক্তি। উক্ত পুরো বছরে, তাঁর মোট সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫০ বিলিয়ন ডলার, টেসলা স্টকের প্রায় ২০% মাস্কের মালিকানা দ্বারা পরিচালিত।

ওই বছরের নভেম্বর মাসে, ইলন মাস্ক ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে ছাড়িয়ে গিয়ে বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হন; আবার এর এক সপ্তাহ পরেই মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী হয়ে উঠেন তিনি। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির অধিকারী মাস্ক বিশ্বের ধনী ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন।

ইলন মাস্কের ধনসম্পত্তি

যদিও পরের মাসে বেজস আবার উক্ত শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছিলেন। মাস্কের সম্পদের প্রায় তিন চতুর্থাংশই টেসলা থেকে প্রাপ্ত। মাস্ক নিজের ব্যক্তিগত উপার্জন টেসলার মূল্যায়ন এবং উপার্জনের সাথে জুড়ে রেখেছেন। যেহেতু তিনি কোনো রকম বেতন পান না, সেকারণে মাস্ক টেসলা বোর্ডের সাথে একটি ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনায় চুক্তিবদ্ধ আছেন। 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের জীবনী, A detailed Biography of Rishi Sunak in Bengali language

ইলন মাস্কের কর্মজীবন, Career

জিপ-টু: ভাইকে সাথে নিয়ে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে জিপ-টু নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ইলন মাস্ক৷ ১৯৯৫ সালে তাঁর কর্মজীবনের পথচলা শুরু হয় কিন্তু সফল হতে বেশ সময় লেগেছিল৷ তাছাড়া সেসময় অ্যাপার্টমেন্টে থাকার মত খরচ মাস্কের কাছে ছিলনা বলে অফিসেই ঘুমাতেন তিনি৷ পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে, ২২ মিলিয়ন ডলারে কমপ্যাক নামক এক কোম্পানির কাছে তিনি জিপ-টু বিক্রি করে দেন৷

পেপ্যাল: টাকা লেনদেন করার একটি ডিজিটাল সার্ভিস চালু করেন এলন মাস্ক, এবং তার নাম দেন পেপ্যাল, এর সাহায্যে তিনি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে যান৷ পরে ১৯৯৯ সালে এক্স.কম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি, যা পরবর্তী সময়ে পেপ্যালের সাথে একত্রিত হয়৷ এলন মাস্ক ২০০২ সালে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে ই-বে’র কাছে পেপ্যাল বিক্রি করে দেন৷ এই বিক্রি দ্বারা তাঁর ১৬৫ মিলিয়ন ডলার লাভ হয় ৷

ইলন মাস্কের ধনসম্পত্তি

স্পেস এক্সের মঙ্গল অভিযান: গত ফেব্রুয়ারিতে  রকেট নির্মাণকারী সুখ্যাত প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি রকেট ফ্যালকন হেভির সফল উৎক্ষেপণের পর তুমুল আলোচিত হয়েছিলেন মাস্ক৷ ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে একটি পরিপূর্ণ শহর স্থাপনের পরিকল্পনা মাস্কের৷

টেসলা: উক্ত কোম্পানি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সে সময় এর সাথে মাস্ক জড়িত ছিলেন না৷ পরবর্তীতে, ২০০৪ সালের দিকে ইলন মাস্ক টেসলার বোর্ড অফ ডিরেক্টরসে যোগ দেওয়ার পর কোম্পানিতে আমূল পরিবর্তন দেখা যায়। বর্তমানে এলন মাস্ক বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী এবং পণ্য প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

দ্য বোরিং কোম্পানি: ২০১২ সালে হাইপারলুপ প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারে ইলন মাস্কের আগ্রহ জাগে ৷ তাই তিনি ‘দ্য বোরিং কোম্পানি’ নামক এক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন৷ 

নিউরালিঙ্ক: ২০১৬ সালে মাস্ক এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করেন। এই কোম্পানিটি সম্প্রতি একটি ব্রেইন-মেশিন ইন্টারফেস প্রকাশ করেছে, যা পরবর্তী সময়ে মানুষের মস্তিষ্কের সাথে কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনকে যুক্ত করবে৷

বং গাই কিরণ দত্তের জীবনী, Biography of You Tuber Kiran Dutta aka Bong guy in Bengali 

ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, Personal life

এলন মাস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত থাকাকালীন তাঁর প্রথম স্ত্রী কানাডিয়ান লেখক জাস্টিন উইলসনের সাথে পরিচিতি হয়। এই দম্পতির ২০০০ সালে বিয়ে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। তাদের প্রথম সন্তান নেভাদা আলেকজান্ডার মাস্ক জন্মের মাত্র ১০ সপ্তাহ পরেই আকস্মিক এসআইডিএস -এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে ২০০৮ সালের দিকে, মাস্ক ইংরেজ অভিনেত্রী তালুলাহ রিলের সাথে ডেটিং শুরু করেন এবং ২০১০ সালে বিয়ে করে নেন। কিন্তু ২০১২ সালেই, মাস্ক ও রিলের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা করা হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও ২০১৩ সালে, মাস্ক ও রিলে পুনরায় বিবাহ করে নেন। পরে ২০১৬ সালে তাদের দ্বিতীয় বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।  মাস্ক ২০০০ সালের গোড়ার দিক থেকে ২০২০ সালের শেষ দিক পর্যন্ত, ক্যালিফোর্নিয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে বাস করতেন। সেইখানে টেসলা এবং স্পেসএক্স উভয়ই কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এখনও তাদের সদর দফতর সেখানে রয়েছে। তবে ২০২০ ডিসেম্বর এর দিক থেকে, মাস্ক টেক্সাসে বসবাস করছেন।

ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন

ওয়ান্ডার মুন্না ওরফে ইন্দ্রাণী বিশ্বাসের জীবনী, Biography of Wonder Munna aka Indrani Biswas in Bengali

স্বীকৃতি স্বরূপ, Awards and recognition 

ইলন মাস্ক বিভিন্ন ব্যবসা এবং প্রযুক্তিতে নিজের অবদানের জন্য বহুক্ষেত্রে স্বীকৃতি এবং প্রশংসা পেয়েছেন। ২০১৩ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির সহযোগী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং টাইম ম্যাগাজিনের ২০১০, ২০১৩ এবং ২০১৮ সালের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তিনি ‘থম লুয়াং গুহা’ উদ্ধারে অবদান রাখার জন্য অর্ডার অফ দিরেকগুনাভর্নের মত আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

স্বীকৃতি স্বরূপ

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ইলন মাস্ক, Elon Musk in popular culture

আয়রন ম্যান ২ (২০১০), হোয়াই হিম? (২০১৬) এবং মেন ইন ব্ল্যাক: ইন্টারন্যাশনাল (২০১৯) এর পর্দায় ইলন মাস্ক কে দেখা গিয়েছিল। বেশ কিছু টেলিভিশন সিরিজেও তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে সিম্পসনস (২০১৫), সাউথ পার্ক (২০১৬), দ্য বিগ ব্যাং থিওরি (২০১৫), এবং রিক অ্যান্ড মর্টি (২০১৯)। তাছাড়াও তিনি ‘রেসিং এক্সটিকশন’ (২০১৫) এবং ওয়ার্নার হার্জোগ- নির্দেশিত ‘লো’ এবং হিয়ার’ (২০১৬) নামক তথ্যচিত্রগুলিতে সাক্ষাৎকারের অবদান রেখেছিলেন।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ইলন মাস্ক

উপসংহার, Conclusion 

ইলন মাস্ক কোম্পানির সিইও হিসেবে বছরের শেষে মাত্র এক ডলার বেতন নেন৷ তাছাড়া নিজের অংশীদারিত্ব থাকা বিভিন্ন কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সহ আরো বেশ কিছু সুবিধা পান তিনি, যার মধ্যে বেশিরভাগটাই আসে টেসলা থেকে৷ জীবনে অনেক কম সময়ে বেশ উন্নতির মুখ দেখেন মাস্ক, যা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণামূলক। 

Frequently asked questions

ইলন মাস্ক কে?

বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন রিভ মাস্ক হলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা। 

ইলন মাস্ক এর জন্ম হয় কবে?

 ১৯৭১ সালের ২৮ শে জুন।

 ইলন মাস্ক কবে টুইটার কিনেন?

২০২২ সালে।

ইলন মাস্ক কবে রয়্যাল সোসাইটির সহযোগী হিসেবে নির্বাচিত হন?

২০১৩ সালে।

Recent Posts