শাক সবজির গুণাবলী, Know about the best utilities of green vegetables in Bengali 



আমরা সকলেই জানি যে শাক-সবজি খেলে শরীর চনমনে এবং সুস্থ থাকে। তাছাড়া আজকাল বেশিভাগ মানুষই স্বাস্থ্য নিয়ে খুব সচেতন। শরীরের প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন এবং নিউট্রিশন সবজিতে থাকে। তাই ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন শাক সবজি খেয়ে শরীর সুস্থ রাখা সকলেরই দায়িত্ব। এই প্রতিবেদনে আজ আপনাদের জন্য কয়েকটি শাক-সবজির গুণাগুণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হ’ল।

শাক সবজির গুণাবলী

পালং শাক, Spinach

পালং শাক কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। এই শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A, B, C, E এবং আয়রন রয়েছে, আর সেজন্যই নিয়মিত পালং শাক খাওয়ার ফলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি হতে থাকে।

পালং শাক

Peace of Mind Quotes for Your Inner Peace

ফুলকপি, Cauliflower

এটি শীতকালীন অন্যতম জনপ্রিয় সবজি। কিন্তু আজকাল সারা বছরই পাওয়া যায় এই সবজিটি। এই সবজিতে ভিটামিন A,C, ক্যালসিয়াম, মিনারেল, ফাইটোকেমিক্যাল, আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি রয়েছে। তাছাড়া এতে ৮৫ % জল থাকে। এই সবজিতে থাকা সালফোরাফেন উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ফুলকপিতে থাকা ফাইবার পাকস্থলীতে খাবার হজমে সহায়তা করে। অন্যদিকে এতে উপস্থিত ইন্ডোল ৩ কর্বোনোল নামক একটি অ্যন্টিইনফ্লামেটারি উপাদান, যা ইনফ্লমেটরি প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করে, এর ফলে পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষা হয়। ফুলকপিতে বিদ্যমান ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড আমাদের মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে।

চুন এর গুণাবলী | স্বাস্থ্যকর চুনাপাথর | Health Benefits of Limestone in Bengali

সর্ষে শাক, Sarson ka saag

শীতকালে সর্ষে শাকের ফলন বেশ ভালো হয়। সর্ষে তেলের মত সর্ষে শাকেও থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং নিয়মিত এই শাক খাওয়ার ফলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে। এছাড়াও এই শাক আমাদের দেহে ভিটামিন ডি তৈরি করতেও সহায়তা করে।

সর্ষে শাক

গাজর, Carrot

গাজর হল আঁশযুক্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি সবজি। যা আমরা সাধারণত সালাদ বা রান্না করা মিক্স সবজিতে দিয়েও খেয়ে থাকি। এছাড়াও গাজরের হালুয়া জনপ্রিয় একটি খাবার যা অনেকেই খেতে পছন্দ করেন। এই রঙিন সবজি ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজ করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, গাজর স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সার রোধ করে। গাজরে অবস্থিত বিটা কেরোটিন, লিউটিন নামক খারাপ কোলেষ্টেরল কমায়। দাঁতের গোড়ায় যেসব ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধে থাকে এই সবজি তাদের ধ্বংস করার কাজ করে। এছাড়াও গাজর আমাদের লিভারে থাকা টক্সিন জাতীয় উপাদানও পরিস্কার করে এবং লিভারের চর্বি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 

ছবি সাজানোর সফটওয়্যার ডাউনলোড করার নিয়ম, Know how to download photo editing software in Bengali

করলা, Bitter gourd

উচ্ছে ও করলা উভয়েরই গুণাগুণ সমান পরিমাণে থাকে। এতে ‘কিউকার বিটাসিন’ নামক এক প্রকার পদার্থ থাকে যার জন্য এর স্বাদ তিক্ত। খেতে তেতো হওয়া সত্বেও এর খাদ্যমান এবং ঔষধিগুণ বিবেচনা করে দেখতে গেলে সবজিটি সবার নিকটই বেশ সমাদৃত। করলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি থাকে যা আমাদের স্বাস্থের পক্ষে উপযোগী। তাছাড়া করলা মুখে রুচি বাড়ায়, অন্যদিকে বাত, এলার্জি, পেটের পীড়া সহ অন্যান্য কিছু রোগের জন্যও  উপকারী।

করলা

টমেটো, Tomato

 টমেটো সবজিটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয় এবং খেতেও বেশ সুস্বাদু। এই সবজি কাঁচা ও রান্না উভয় ভাবেই খাওয়া যায়। টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থেকে। এগুলোর প্রভাবে আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়। তাছাড়া এই সবজি ক্যান্সারের ঝুঁকি কম করতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে দৃষ্টি শক্তির ক্ষমতা বাড়াতেও টমেটো বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ব্রকলি, Broccoli

ব্রকলিকে অনেকে সবুজ ফুলকপিও বলে থাকে। এই বিশেষ সবজি ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের টিস্যু মেরামত করে থাকে। অন্যদিকে মানসিক চাপ কম করতে ব্রকলি বিশেষ অবদান রাখে। ব্রকলি আমাদের দেহে চিনির প্রভাব রোধ করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ব্রকলি

কিউই ফল কি, কিউই ফলের উপকারিতা, kiwifruit benefits in Bengali  

কাঁচকলা, Green Banana

প্রায় সারাবছরই কাঁচকলা পাওয়া যায়। কেউ কেউ একে আনাজি কলাও বলে থাকেন। সবজি হিসেবে কাঁচকলা বাঙালিদের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচকলা খেলে মুখে রুচি বাড়ে। তাই রোগীদের পথ্য হিসেবে এর কোনো জুড়ি নেই। কাঁচকলা সিদ্ধ করে বাটা খেলে আমাশয় সেরে যায়। তবে রক্ত আমাশয় এবং জন্ডিস হলে কাঁচকলা সিদ্ধ করে গরম ভাত দিয়ে খাওয়া উচিত। 

কাঁচকলা

ঢেঁড়স, Ladies Finger

এই সবজিটি দেহে রক্ত স্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে মুখের রুচি বাড়ায় ও শরীর ঠাণ্ডা রাখে। তাছাড়া আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

বাঁধাকপি, Cabbage

বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে। বাঁধাকপিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস থাকে, যা আমাদের হাড়কে মজবুত করে। এছাড়া বাধাকপি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। বাঁধাকপিতে প্রচুর আঁশ থাকে, যা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। বর্তমানে বাজারে ভিন্ন রঙের বাঁধাকপিও পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে লাল বাঁধাকপিতে থাকে প্রায় ৩৬ রকমের ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যানথোরাসায়ামিন, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করার কাজ করে। তাছাড়া এতে থাকা ভিটামিন C এবং সালফার শরীর থেকে বিষাক্ত ইঊরিক এসিড দূর করে। 

নিয়মিত হাঁটার উপকারিতা ~ Benefits of Walking Daily [ in Bengali ]

শিম, The bean

শিমের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে। অন্যদিকে শিমের ভেতরে থাকা বিচিতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। শিমে উপস্থিত অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধ করে। তাছাড়া শিম বাতের ব্যথা কম করতেও সাহায্য করে এবং চুলের সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই সবজি ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকরী। শিম খেলে বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার রোধ হ’তে পারে।

শিম

লাউ, Gourd 

লাউ অতি জনপ্রিয় একটি সবজি। সুস্বাদু এই সবজিটিকে গ্রামাঞ্চলে কদুও বলা হয়ে থাকে। এর নানা রকম আকার-আকৃতি হয়। কোনো কোনো লাউ দেখতে গোল, আবার কোনোটি লম্বাটে হয়। কচি লাউয়ের তরকারি খেতে অনেকেরই বেশ ভালো লাগে। লাউ দিয়ে পায়েশ, হালুয়া, মোরব্বা এসব লোভনীয় খাবার তৈরি করা যায়। এই সবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এ ছাড়া এটি শরীর ও মস্তিষ্ককেও ঠান্ডা রাখে।

ইউপিআই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, Details about UPI in Bengali

উপকারী কিছু শাক, Benefits of some leafy vegetables

মুলো শাক : মুলোর কচি পাতা বা কচি মুলোর শাক সহজে হজম হয়। এছাড়া তেল বা ঘি দিয়ে ভেজে মুলো শাক খেলে বাতের ব্যথা কম হয়। কিন্তু তা ভাল করে সেদ্ধ না করে যদি খাওয়া হয় তবে কফ ও পিত্তের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

মুলো শাক

ডাঁটা শাক: ডাঁটাশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C, ফলিক অ্যাসিড রয়েছে; যা আমাদের ত্বকের ভালো থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরী কিছু উপাদান। এই শাকে থাকা বিভিন্ন ভিটামিনগুলি আমাদের দেহে প্রতিদিনের পুষ্টি জোগায়, যার ফলে ত্বক ও চুলের ক্ষয় রোধ হয়, তাছাড়া ডাঁটা শাকে থাকা উপাদানগুলি আমাদের মুখের ভেতরের নরম অংশগুলোকে রক্ষা করে। এ ছাড়াও এই শাকে উপস্থিত ভিটামিন A চোখের পুষ্টি জোগায়, যার ফলে রাতকানা রোগ দূর হয় ।

হিঞ্চে শাক: স্বাদ তেতো হলেও হিঞ্চে শাক আমাদের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও এই শাক আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং রক্ত পরিষ্কার করে। অনেকেই এই শাক সেদ্ধ করে নিয়ে সর্ষের তেল ও নুন দিয়ে মেখে ভাত খেতে ভালোবাসে। এছাড়াও এই হিঞ্চে শাকের বড়া খাওয়া যায়। যাদের অ্যানিমিয়া সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে তাদের এই শাক খাওয়া উচিত।

পুঁই শাক : পুঁই শাক অনেকেই পছন্দ করেন না, কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C রয়েছে এই শাকে। এই ভিটামিন আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও পুঁই শাকে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ম, খনিজ লোহা ও জিংক রয়েছে। এই সব উপাদান আমাদের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তবে হার্টের কোনও সমস্যা থাকলে এই শাক না খাওয়া উচিত। 

পুঁই শাক

লাল শাক : লাল শাক আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় লাল শাক। যাদের অ্যানিমিয়া আছে তাদের জন্য খুবই উপকারী এই লাল শাক। এছাড়া এই শক্র অ্যামিনো অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এই সব উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

লেটুসপাতা : এই পাতার ব্যবহার আমরা সাধারণত সালাদ বা স্যান্ডউইচ এর ক্ষেত্রে দেখে থাকি। এটি খুব উপকারী আঁশযুক্ত একটি সবজি যা খাবারের হজমে সহায়তা করে। এই লেটুসে প্রচুর আয়রণ থাকে যা গর্ভবতীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়া লেটুস পাতায় প্রোটিন, ভিটামিন বি, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই পাতায় বিদ্যমান সোডিয়াম, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ শরীরের অঙ্গে জল জমে যাওয়ার সমস্যা রোধ করে। তাছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A আছে, যা বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং এটি চোখের জন্যও প্রভূত উপকারী। অন্যদিকে রক্তের সুস্থতার ক্ষেত্রে পটাসিয়াম প্রয়োজনীয় যা সবুজ লেটুস পাতায় যথেষ্ট পরিমাণ পাওয়া যায়। 

লেটুসপাতা

এই পাতার ব্যবহার আমরা সাধারণত সালাদ বা স্যান্ডউইচ এর ক্ষেত্রে দেখে থাকি। এটি খুব উপকারী আঁশযুক্ত একটি সবজি যা খাবারের হজমে সহায়তা করে। এই লেটুসে প্রচুর আয়রণ থাকে যা গর্ভবতীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়া লেটুস পাতায় প্রোটিন, ভিটামিন বি, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই পাতায় বিদ্যমান সোডিয়াম, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ শরীরের অঙ্গে জল জমে যাওয়ার সমস্যা রোধ করে। তাছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A আছে, যা বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং এটি চোখের জন্যও অনেক উপকারী। অন্যদিকে রক্তের সুস্থতার ক্ষেত্রে পটাসিয়াম প্রয়োজনীয় যা সবুজ লেটুস পাতায় যথেষ্ট পরিমাণ পাওয়া যায়। 

সবুজ শাক সবজি

পরিশেষে, Conclusion 

সবুজ শাক সবজি আমাদের দেহ সুস্থ ও মন ভালো রাখার ক্ষেত্রে অনেক জরুরী। এগুলোতে যে উপাদান থাকে তা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটে শাকসবজি অবশ্যই রাখা উচিত।

Recent Posts